আয়ুর্বেদে নিমকে বলা হয় রোগনাশক। এটি রক্ত শুদ্ধ করে, সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমন করে। এর পাতার নির্যাস ই.কোলি, স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াস ও স্ট্রেপ্টোকক্কাসের মতো জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর। নিম্বোলাইড ও নিম্বিনের মতো উপাদান এতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও প্রদাহ-নিরোধক গুণ এনে দেয়।
লবঙ্গের প্রধান উপাদান ইউজেনল (৫০-৮০%) শক্তিশালী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হিসেবে কাজ করে। এটি ই.কোলি, স্ট্যাফ ও সিউডোমোনাস অ্যারুগিনোসার মতো ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর। ইউজেনল ছাড়াও এতে থাকা গ্যালিক অ্যাসিড ও ক্যাটেচিন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা বাড়ায়। ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন এর মতো সংক্রমণেও এটি বেশ কার্যকর।
থাইম
থাইমাস ভালগারিস (থাইম) একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক। এটি সালমোনেলা ও ব্যাসিলাস সেরিয়াসের মতো ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কাজ করে। এতে থাকা কারভাক্রোল যৌগটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও প্রদাহ-নিরোধক হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। হালকা সংক্রমণ বা শরীরের প্রদাহ কমাতে এটি একটি প্রাকৃতিক সমাধান।
হলুদ
‘সোনালি অ্যান্টিবায়োটিক’ নামে খ্যাত হলুদ তার মূল উপাদান কারকিউমিনের জন্য পরিচিত।
যা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য বহন করে। প্রাচীনকালে ক্ষত ও ত্বকের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হত।
আদা
আদায় রয়েছে জিঞ্জারল ও শোগাওল নামক জৈব উপাদান। যা প্রদাহ-নিরোধক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের গবেষণায় দেখা গেছে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস, সোরিয়াসিস ও অন্ত্রের প্রদাহে এটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে আশাব্যঞ্জক ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির এই উপাদানগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের আলোয় পরীক্ষিত ও কার্যকর। প্রকৃতির এই শক্তিগুলোর সঠিক ব্যবহার আমাদের সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধে একটি বিকল্প পথ দেখাতে পারে।