চিকিৎসাশাস্ত্রে চোখের এই অনিয়ন্ত্রিত কাঁপা বা লাফিয়ে ওঠাকে বলা হয় মাইয়োকিমিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে এক-দুবার চোখ কাঁপা সাধারণত স্বাভাবিক এবং তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। তবে যদি এটি অতিরিক্ত হয় বা বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে অবশ্যই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চোখের পাতা কেঁপে ওঠার পেছনে কয়েকটি গুরুতর কারণ থাকতে পারে। মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বেশি ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে চোখ কাঁপতে পারে। এ ছাড়া বাতাসের ধুলাবালি, ময়লা, রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসা কিংবা চোখে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে সচেতন হলে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
চোখের পাতা লাফালে প্রথমেই চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও অন্যান্য ডিজিটাল পর্দার ব্যবহার সীমিত করা উচিত এবং কম আলোয় চোখের কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করতে হবে এবং চা-কফির পরিমাণও কমিয়ে দেওয়া ভালো। দূষিত বাতাসের কারণে সমস্যা হলে রোদচশমা ব্যবহার করা উপকারী হতে পারে। তবে গুরুতর দৃষ্টিগত সমস্যা, পুষ্টির ভারসাম্যহীনতা কিংবা অ্যালার্জির কারণে যদি চোখ কাঁপা শুরু হয়, তাহলে অবশ্যই একজন দক্ষ চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। কারণ দৃষ্টিগত সমস্যায় ধীরে ধীরে চোখের জ্যোতি কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ভবিষ্যতে চোখের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
চোখের পাতা লাফালে প্রাথমিকভাবে পানি পান বাড়াতে হবে এবং প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে ডাব, দুধ, ডিম, বাদাম ও মৌসুমি ফলমূল খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। পুষ্টির ভারসাম্যহীনতার কারণে চোখ কাঁপা শুরু হলে চিকিৎসকরা সাধারণত শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি রয়েছে বলে ধারণা করেন। এ ক্ষেত্রে সঠিক ডায়েট প্ল্যান ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই চোখ কাঁপার মতো সমস্যার সম্মুখীন হলে দেরি না করে প্রথমেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। তাতেও উপকার না হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
লেখক : চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফ্যাকো সার্জন
সাবেক বিভাগীয় প্রধান, চক্ষুরোগ বিভাগ
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল
চেম্বার : আল-রাজী হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা
