হৃদযন্ত্রের সমস্যা এখন আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে চলেছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত আধুনিক স্টেথোস্কোপ মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই হৃদয়ের তিনটি গুরুতর সমস্যা শনাক্ত করতে পারে—হার্ট ফেলিওর, হার্টের ভালভের অসুখ ও অনিয়মিত হার্টবিট।
ব্রিটেনের একদল গবেষক এই আধুনিক স্টেথোস্কোপ নিয়ে একটি বড় আকারের গবেষণা চালিয়েছেন। তারা বলছেন, এই যন্ত্রটি স্বাস্থ্যসেবায় গেম চেঞ্জার হতে পারে।
চিকিৎসকেরা যাতে দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করতে পারেন, সেজন্যই এই প্রযুক্তি কাজে আসবে। সাধারণ স্টেথোস্কোপ যেখানে কেবল শব্দ শোনার জন্য ব্যবহৃত হয়, সেখানে নতুন এই যন্ত্রটি অনেক বেশি কাজ করতে সক্ষম। এটি দেখতে তাসের একটি কার্ডের মতো। একটি ছোট মাইক্রোফোন দিয়ে হার্টবিট ও রক্তপ্রবাহের সূক্ষ্ম তারতম্য শনাক্ত করা হয় এবং একই সঙ্গে ইসিজিও নেওয়া হয়।
তারপর সেই সব তথ্য ক্লাউডে পাঠানো হয়, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তা বিশ্লেষণ করা হয়। এই ডিভাইসটি উন্নত করতে হাজার হাজার রোগীর ডেটা ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব রোগীকে এই স্টেথোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল, তাদের হৃদরোগ শনাক্ত হওয়ার হার সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
আধুনিক স্টেথোস্কোপের সাহায্যে হার্ট ফেলিওর শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে ২.৩ গুণ।
অনিয়মিত হার্টবিট শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে ৩.৫ গুণ। হার্টের ভালভের সমস্যা শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে ১.৯ গুণ। গবেষণাটি ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও ইমপেরিয়াল কলেজ হেলথকেয়ার ট্রাস্টের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এতে ৯৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রায় ১২,০০০ রোগীকে এই এআই স্টেথোস্কোপ দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে ইউরোপীয় কার্ডিওলজি সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে, যা বিশ্বের বৃহত্তম হার্ট কনফারেন্স।
গবেষক ও চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় এসব হৃদরোগ উপসর্গ ছাড়া থাকে এবং কেবল তখনই ধরা পড়ে, যখন রোগী সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে যান। আগেভাগেই শনাক্ত করা গেলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব, যা রোগীর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের আরো কিছু অঞ্চলে যেমন দক্ষিণ লন্ডন, সাসেক্স ও ওয়েলসেও এই ডিভাইসটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষকরা আশাবাদী, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।