আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি মূলত দুই ধরনের কাজে ব্যবহৃত হয়Ñ রোগ নির্ণয় (ডায়াগনস্টিক) এবং চিকিৎসা (থেরাপিউটিক)। অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না ঠিক কী কারণে রোগীর ব্যথা বা সমস্যা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ছিদ্র করে অ্যান্ডোস্কোপের মাধ্যমে টেলিস্কোপ বা ক্যামেরা অস্থিসন্ধির ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। মনিটরের সাহায্যে পুরো জয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করে সমস্যার সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়। এটি রোগ নির্ণয়ের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি।
চিকিৎসার ক্ষেত্রেও আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। হাঁটুর বিভিন্ন লিগামেন্ট পুনর্গঠন, ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধচন্দ্রাকৃতির তরুণাস্থি (মিনিস্কাস) আংশিক অপসারণ বা মেরামত, জয়েন্টের ভেতরে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক গঠন বা গোটা অপসারণ ইত্যাদি এই পদ্ধতিতে করা যায়। এছাড়া হাঁটুর পাটি ঘন ঘন সরে যাওয়ার সমস্যারও চিকিৎসা এভাবে সম্ভব। বাতজনিত কারণে হাড়ের ক্ষয় প্রাথমিক থেকে মধ্যম পর্যায়ে থাকলে মাইক্রোপাংচার বা মাইক্রোফ্র্যাকচার পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
লিগামেন্ট ইনজুরি সাধারণত খেলাধুলাজনিত কারণে হয়ে থাকে, যা স্পোর্টস ইনজুরি নামে পরিচিত। এ ছাড়া দুর্ঘটনা, আঘাত, উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়া, কিংবা খেলোয়াড়, নৃত্যশিল্পী বা অভিনয়শিল্পীদের ক্ষেত্রে মোচড় খাওয়ার ফলে লিগামেন্টে আঘাত লাগতে পারে। তবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় খেলাধুলাজনিত আঘাতের ক্ষেত্রে।
এই পদ্ধতির প্রধান সুবিধা হলো, বড় করে কাটাছেঁড়া না করায় অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ, জটিলতা বা দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন কমে যায়। ফলে হাসপাতালের খরচও তুলনামূলকভাবে কম হয়। হাঁটু শক্ত বা জ্যাম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে। একই সঙ্গে অস্থিসন্ধির ভেতরের পুরো অংশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়, যা অনেক সময় খোলা অস্ত্রোপচার করেও সম্পূর্ণভাবে দেখা সম্ভব হয় না।
লেখক : হাড় ও জোড়া বিশেষজ্ঞ এবং আর্থ্রোস্কোপিক সার্জন
অধ্যাপক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)
চেম্বার : বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল লি., শ্যামলী, মিরপুর রোড, ঢাকা। ১০৬৩৩
