তীব্র গরমে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত বেড়ে যায়। ব্যায়ামের সময় তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। ফলে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এতে মাথা ঘোরা, বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। তাই গরমের সময় ব্যায়াম বা হাঁটার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
প্রথমত, শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়ামের আগে, চলাকালীন এবং পরে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। অনেকেই তৃষ্ণা লাগলে তবেই পানি পান করেন, যা সঠিক অভ্যাস নয়। বরং নির্দিষ্ট বিরতিতে অল্প অল্প করে পানি পান করা উচিত। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর থেকে লবণ ও খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যায়, যা পূরণ করতে ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় যেমন- ওআরএস, লেবু-লবণ পানি বা ডাবের পানি পান করা যেতে পারে। এসব পানীয় শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
পোশাক নির্বাচনেও সচেতনতা জরুরি। গরমের সময় সবসময় হালকা রঙের, ঢিলেঢালা এবং বাতাস চলাচল করতে পারে এমন পোশাক পরা উচিত। সুতির কাপড় এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী। কারণ এটি সহজেই ঘাম শোষণ করে এবং শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। আঁটসাঁট বা গাঢ় রঙের পোশাক শরীরে তাপ ধরে রাখে, যা অস্বস্তি বাড়ায়।
ব্যায়ামের সময় ও স্থান নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। দিনের সবচেয়ে গরম সময়, অর্থাৎ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন। এই সময় সূর্যের তাপ সবচেয়ে তীব্র থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ভোর পাঁচটা থেকে সকাল সাতটার মধ্যে বা সন্ধ্যার পর অপেক্ষাকৃত শীতল পরিবেশে ব্যায়াম করা নিরাপদ। সম্ভব হলে ছায়াযুক্ত পার্ক, খোলা সবুজ পরিবেশ বা ঘরের ভেতরে ব্যায়াম করা ভালো। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জিমও একটি নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।
খোলা জায়গায় ব্যায়াম করতে গেলে কিছু অতিরিক্ত সুরক্ষা গ্রহণ করা উচিত। যেমন- টুপি, ছাতা বা রোদচশমা ব্যবহার করা যেতে পারে, যা সরাসরি রোদ থেকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া সানস্ক্রিন ব্যবহার করাও উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকেন।
খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের শরীরের সংকেত বোঝা। ব্যায়ামের সময় যদি মাথা ঘোরা, বমি ভাব, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত ঘাম বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে তা হিট স্ট্রোকের পূর্বাভাস হতে পারে। এ অবস্থায় কোনোভাবেই ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিতে হবে, ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে যেতে হবে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
লেখক : চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা। হটলাইন
