রাতে বাড়িতেও হতে পারে হিট স্ট্রোক, সুরক্ষিত থাকবেন যেভাবে

- Advertisements -

গরমের শুরুতেই বৈশাখ যেন তার তীব্র রূপ দেখাতে শুরু করেছে। তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, অতিরিক্ত ঘাম আর অস্বস্তিতে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সময় সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি হলো হিট স্ট্রোক, যা অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই মনে করেন, শুধু রোদে বেশি সময় থাকলেই হিট স্ট্রোক হয়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি আরও জটিল

প্রথমেই জানা দরকার, হিট স্ট্রোক শুধু রোদে ঘোরাফেরার কারণে হয় না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বদ্ধ, গরম ও আর্দ্র পরিবেশেও দীর্ঘ সময় থাকলে হিট স্ট্রোক হতে পারে। এমনকি ঘরের ভেতরেও, যদি পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকে এবং তাপ জমে থাকে, তাহলে শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। তাই শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

হিট স্ট্রোক হলে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি। অথচ স্বাভাবিক অবস্থায় আমাদের শরীরের তাপমাত্রা থাকে ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে। শরীর তখন আর অতিরিক্ত তাপ বাইরে বের করতে পারে না। এর ফলে রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়ে যায় এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে শুরু করে, যা মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

রাতে বাড়িতে হিট স্ট্রোক থেকে সুরক্ষিত থাকবেন যেভাবে

গরমে ঘরের ভেতরেও আরাম ধরে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে এসি থাকুক বা না থাকুক, ঘরের তাপমাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Advertisements

আপনার ঘরে যদি এসি থাকে, তাহলে সেটিকে খুব বেশি ঠান্ডা না করে একটি সহনীয় তাপমাত্রায় রাখাই ভালো। অতিরিক্ত ঠান্ডা যেমন শরীরের জন্য অস্বস্তিকর, তেমনি বাইরে বের হলে হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তন শরীরের ওপর চাপ ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের তাপমাত্রা যদি ৯৫° ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যায়, তাহলে শুধু ফ্যান যথেষ্ট নয়, সে ক্ষেত্রে এসি ব্যবহার করা প্রয়োজন।

দিনের বেলায় ঘর গরম হওয়া থেকে বাঁচাতে জানালা, পর্দা ও ব্লাইন্ড বন্ধ রাখুন। এতে সূর্যের তাপ সরাসরি ঘরে ঢুকতে পারে না। আর রাতে বাইরের তাপমাত্রা কিছুটা কমে গেলে জানালা খুলে দিন, যাতে ঠান্ডা বাতাস ঢুকে ঘর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হয়।

ফ্যান ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু কৌশল কাজে লাগে। গরম বাতাস বের করে দিতে একটি ফ্যান খোলা জানালার দিকে মুখ করে রাখুন। এতে ভেতরের গরম বাতাস বাইরে চলে যাবে। তবে খুব বেশি গরমে সরাসরি শরীরের দিকে ফ্যান চালানো ঠিক নয়, কারণ এতে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ঘুমের সময় পাতলা সুতির চাদর ব্যবহার করুন। সুতি কাপড় শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং ঘাম শোষণ করে। চাইলে একটি ভেজা কাপড় ফ্রিজে রেখে কপালে ব্যবহার করতে পারেন, যা দ্রুত শরীর ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। এমনকি ঘুমানোর আগে ঠান্ডা মোজা ব্যবহার করলেও শরীরে শীতল অনুভূতি আসে।

Advertisements

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাপ সবসময় উপরের দিকে ওঠে। তাই সম্ভব হলে নিচতলায় ঘুমানোর ব্যবস্থা করুন। নিচের তলায় তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে, ফলে সেখানে আরাম পাওয়া যায় বেশি।

হিট স্ট্রোক হলে কী করবেন

যদি কারও হিট স্ট্রোক হয়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রথমেই রোগীকে গরম পরিবেশ থেকে সরিয়ে ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যান। সম্ভব হলে এসি রুমে রাখুন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখে-চোখে ঝাপটা দিন এবং কাপড় ঢিলা করে দিন, যাতে শরীর কিছুটা স্বস্তি পায়। যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
হিট স্ট্রোক একটি গুরুতর সমস্যা হলেও সচেতন থাকলে এটি সহজেই এড়ানো সম্ভব। শরীরের ছোট ছোট সংকেতগুলো বুঝে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/gpor
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন