পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় রোজার পর শরীরে পানির ভারসাম্য রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। সতেজ ত্থাকতে ইফতারের পর অনেকে চা পান করেন। যারা স্বাস্থ্যসচেতন, তারা এসময় বেছে নেন গ্রিন টিকে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, শরীরের প্রদাহ কমায় এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে সুরক্ষা দেয়। তবে রমজানে এই চা পানের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। তা না হলে উপকারের বদলে অপকারই বেশি হতে পারে।
অনেকের ধারণা, গ্রিন টি দ্রুত খাবার হজম করে বা চর্বি পুড়িয়ে ফেলে। আসলে এটি ভুল ধারণা। খাওয়ার পরপরই গ্রিন টি পান করলে তা প্রোটিন পরিপাকে বাধা সৃষ্টি করে। এদিকে ইফতারে প্রায়ই ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া হয়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে তারপর ইফতার করা হয়। তাই খাবার খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর এই চা পান করা উচিত।
অনেকে চায়ে চিনির বদলে মধু ব্যবহার করেন। মধুর পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে খুব গরম চায়ে এটি মেশাবেন না। চা কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর মধু যোগ করুন।
গ্রিন টি দিয়ে ওষুধ সেবন করলে শরীরে তা শোষণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। ওষুধ খাওয়ার জন্য সব সময় সাধারণ পানি ব্যবহার করুন।
গ্রিন টিতে ক্যাফেইন ও ট্যানিন থাকে। তাই এটি দিনে দুই থেকে তিন কাপের বেশি পান করলে মাথাব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া বা শরীরে আয়রন শোষণের ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই ইফতারের পর থেকে সেহরির সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ দুই কাপ পান করুন। তবে সেহরির পর পান না করাই ভালো।
বাজার চলতি কৃত্রিম স্বাদের গ্রিন টিতে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা এর প্রাকৃতিক গুণ নষ্ট করে দেয়। তাই ভালো মানের সাধারণ গ্রিন টি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
গ্রিন টি পানের আসল মজা হলো ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে এর স্বাদ নেওয়া। তাড়াহুড়ো করে পানে এর প্রশান্তিদায়ক গুণটি পাওয়া যায় না।
গ্রিন টিতে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পানে রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়াসহ উদ্বেগ ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। দৈনিক ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যদি আপনি ক্যাফেইন নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তাহলে ডিক্যাফিনেটেড গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন।
