English

24 C
Dhaka
মঙ্গলবার, মার্চ ৫, ২০২৪
- Advertisement -

আজ থেকে বইমেলা

- Advertisements -

করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২২’। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। বিকাল ৩টায় গণভবন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে মেলার ভার্চুয়াল উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করবেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় প্রদান করা হবে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২১।

Advertisements

এবার বইমেলা হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০২ প্রতিষ্ঠানকে ১৪২ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩২ প্রতিষ্ঠানকে ৬৩৪ ইউনিট- মোট ৫৩৪ প্রতিষ্ঠানকে ৭৭৬ ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় থাকছে ৩৫টি প্যাভিলিয়ন। এর মধ্যে বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়ন থাকছে তিনটি। গতকাল বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বইমেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে চারটি প্রবেশ ও তিনটি বাইর পথ থাকবে। বিশেষ দিনগুলোয় লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এম্ফি থিয়েটারের পুব দিকে মেলার মূল প্রাঙ্গণে। সেখানে ১২৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে।

অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২২ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ ও ২০২২ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এ ছাড়া ২০২২ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।

Advertisements

এবারের গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশ করছে নতুন ও পুনর্মুদ্রিত ১০৭টি বই। বরাবরের মতো এবারের মেলায়ও থাকছে গ্রন্থ উন্মোচন, লেখক বলছি মঞ্চ, নতুন বইয়ের স্টল, শিশু চত্বর, পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, পর্যাপ্ত প্রবেশ ও বাইর পথ, আশ্রয় কেন্দ্র, নামাজঘর, পার্কিংব্যবস্থা, ব্রেস্ট ফিডিং জোন, টয়লেট ব্যবস্থা, হুইল চেয়ার, ফুডকোর্ট ইত্যাদি। মেলার প্রবেশ ও বাইর পথে পর্যাপ্তসংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। নি-িদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলা এলাকাজুড়ে ৩ শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পলিথিন ও ধূমপান মুক্ত থাকবে বইমেলা। মেলাপ্রাঙ্গণ ও পাশের এলাকায় (সমগ্র মেলাপ্রাঙ্গণ ও দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত এবং দোয়েল চত্বর থেকে শহীদ মিনার হয়ে টিএসসি, দোয়েল চত্বর থেকে চানখাঁরপুল, টিএসসি থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত) নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে প্রতিদিন বিকাল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। অমর একুশে বইমেলা-২০২২-এর প্রচার কার্যক্রমের জন্য একাডেমিতে বর্ধমান ভবনের পশ্চিম বেদিতে একটি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুটি তথ্য কেন্দ্র থাকবে। এবারও শিশু চত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। তবে কভিড পরিস্থিতির কারণে প্রথম দিকে ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে না। বর্তমান সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ধারণার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই কর্তৃপক্ষ বইমেলায় তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, তথ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ খবরাখবর এবং মেলার মূল মঞ্চের সেমিনার প্রচারের ব্যবস্থা করবে। মেলায় ওয়াইফাই সুবিধা থাকবে।

মেলায় নতুন সংযোজন : এবারের মেলায় নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। ১. অমর একুশে বইমেলা-২০২২-এর মূল প্রতিপাদ্য ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। এ ছাড়া এবার ভাষা আন্দোলনের ৭০ ও সংবিধান প্রণয়নের ৫০ বছর। ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও সংবিধান প্রাপ্তির এ বিশেষ সময়ে বাঙালিত্বের চেতনা-জাগানিয়া বইমেলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২. বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্বাধীনতার মর্মবাণী সবার মাঝে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু-গ্রন্থভুক্ত হস্তলিপি বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে স্থাপনাগুলো সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছে। লিপি পাঠ করে তরুণরা বঙ্গবন্ধুর হাতের লেখার সঙ্গে পরিচিত হবে। একই সঙ্গে তাঁর চিন্তা ও দর্শনের অন্তর্নিহিত অর্থও উদ্ধার করতে পারবে। ৩. এবারের মেলায় যুক্ত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ বাস্তবায়ন কমিটির একটি প্যাভিলিয়ন। ৪. কভিড মহামারি পরিস্থিতিতে যখন বইমেলা হচ্ছে তখন মেলায় যাতে স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলা হয় সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কভিড-প্রটোকল মানা এবার সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৫. সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মধ্যমাঠের পরিবর্তে এবার প্যাভিলিয়নগুলো উদ্যানের সব প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ৬. এ বছর লিটল ম্যাগাজিনের স্টলগুলোকে উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পুব দিকে উদ্যানের মূল প্রাঙ্গণে বিন্যস্ত করা হয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলাপ্রাঙ্গণ খোলা থাকবে। আর শুক্র ও শনি ছুটির দিন বেলা ১১টায় মেলার দ্বার খোলা হবে এবং ২১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে সকাল ৮টায়।

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ

আজকের রাশিফল

আল কোরআন ও আল হাদিস

- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন