আজ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার সকালে জাতীয় কবিতা পরিষদের আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হুসেন মিলনায়তনে জাতীয় কবিতা উৎসব-২৬ উপলক্ষে ‘সংবাদ সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়।
সূচনা বক্তব্যে কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ‘ কবিতাই সাহস, সাহসই কবিতা। জাতীয় কবিতা পরিষদ বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সপক্ষে, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার।
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান সাংবাদ সম্মেলনে ছিলেন মূল বক্তা। তিনি বলেন, আশির দশকের সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের অগ্নিগর্ভ থেকে জাতীয় কবিতা পরিষদের জন্ম। ১৯৮৭ সালের ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি, স্বৈরাচার এরশাদের তথাকথিত ‘এশীয় কবিতা উৎসব’-এর বিরুদ্ধে ‘শৃংখল মুক্তির জন্য কবিতা’ শ্লোগান দিলে দেশের প্রগতিশীল কবিরা প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছিলেন জাতীয় কবিতা উৎসব। ৪০ বছরের ধারাবাহিকতায় সেই প্রতিবাদ পরিণত হয়েছে এক মহীরুহে।
প্রতি বছর মহান ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় কবিতা উৎসব নিয়মিত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই উৎসব শুধু কবিতাপাঠের মঞ্চ নয়-এটি বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক জীবন্ত সংগ্রাম।
আগামী ১ ও ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুই দিনব্যাপী এই উৎসবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কবি, লেখক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি বিদেশের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকরাও অংশগ্রহণ করবেন। ফলে জাতীয় কবিতা উৎসব একটি আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ উৎসব। একাত্তরের পরাজিত খুনি, ধর্ষক, অগ্নিসংযোগকারী ও অন্ধকারের অহত শক্তি এবং জুলাইয়ের পতিত ফ্যাসিস্টদের দোসররা আবার মাথাচাড়া নিয়ে উঠেছে। সারা দেশে তারা মব সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এক ভয়াবহ ভীতির সংস্কৃতি চালু করেছে। তারা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সংবাদপত্রসহ গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা, ভাঙ্গুর, অগ্নিসংযোগ এবং লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের উপর আক্রমণ চালিয়ে এই দেশ ও জাতিকে ধ্বংসের কৃষ্ণগহ্বরে ঠেলে দিতে চায়। দেশের ভয়াবহ এই ক্লান্তিলগ্নে জাতীয় কবিতা উৎসব-২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়ে দিতে চাই- লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্ত আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে কষ্টার্জিত এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ-কখনোই এই পরাজিত দানবদের হাতে তুলে দিতে দেব না। জনগণের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার রূপকার কবিরা তাই আবার রুখে দাঁড়াবে। চার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী আমাদের সংস্কৃতি- বৈষ্ণব, বাউল, পীর, ফকির, দরবেশ, বৌদ্ধ, আদিবাসীর অসাম্প্রদায়িক মানবিক সংস্কৃতি-মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান-ধর্ম-বর্ণ-জাতি নির্বিশেষে সকল মানুষের সংস্কৃতি রক্ষার ডাক দেবে। এই ডাক উচ্চারিত হবে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মারক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পবিত্র প্রাঙ্গণ থেকে, জাতীয় কবিতা উৎসবের মঞ্চে দাঁড়িয়ে।
এবছর জাতীয় কবিতা উৎসব হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। আমরা বিশ্বাস করি-ভাষা শহীদদের রক্তে রঞ্জিত এই প্রাঙ্গণেই কবিতার প্রতিবাদ, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আরও দৃঢ়, আরও উচ্চকিত হয়ে উচ্চারিত হবে।”
দুই দিনব্যাপী এই উৎসব উদ্বোধন করবেন-বীর জুলাইযোদ্ধা শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ’র সম্মানিত পিতা জনাব মীর মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন-গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। প্রধান আলোচক থাকবেন বিশিষ্ট লেখক-গবেষক গণবুদ্ধিজীবী প্রফেসর সলিমুউল্লাহ খান।
জাতীয় কবিতা উৎসবের দু’দিনেই চলবে-সেমিনার, কবিতাপাঠ, আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা। অংশগ্রহণ করবেন দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সর্বস্তরের মানুষ।
জাতীয় কবিতা উৎসব ২০২৬’ উদযাপনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি)’র ২য় তলায় জাতীয় কবিতা উৎসবের দফতর স্থাপন করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি কবিদের কবিতা উৎসবে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে নিবন্ধন চলছে। উৎসবের দিন পর্যন্ত নিবন্ধন চলবে।
নীচে উল্লেখিত লিংকে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করা যাবে-
https://npcbd.com/utsob26 অথবা https://jatiyokobitaparishad.com/utsob26
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি মতিন বৈরাগী, কবি মানব সুরত, কবি শ্যামল জাকারিয়া, কবি নূরুন নবী সোহেল। সঞ্চালনা করেন কবি এবিএম সোহেল রশিদ।
উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক শাহীন চৌধুরী, কবি ক্যামেলিয়া আহমেদ, কবি আসাদ কাজল, কবি রোকন জহুর, কবি ইউসুফ রেজা প্রমুখ
