এস এম আজাদ হোসেন
এক মাসের নীরব সংযম শেষে
ভোরের আলোয় নরম তাকবির ভেসে আসে-
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার-
শহরের ইট-কাঠ পেরিয়ে
মানুষের ভেতরের মরুভূমিতেও বৃষ্টি নামে।
রোজার দিনগুলো ছিল
ক্ষুধার নয়, উপলব্ধির-
জিহ্বার সংযমে ভাষা শুদ্ধ হয়েছে,
চোখের পাহারায় দৃষ্টি হয়েছে বিনম্র,
আর হৃদয়ের গোপন দরজায়
কাঁপতে কাঁপতে নেমেছে তাওবার আলো।
এই যে ঈদ-
এ শুধু নতুন জামার রঙ নয়,
এ এক আত্মার পুনর্জন্ম,
যেখানে মানুষ আবার শিখে
কীভাবে মানুষ হতে হয়।
সাহরির অন্ধকারে যে কান্না জমেছিল
ইফতারের দোয়ায় যে আশা জেগেছিল-
আজ তা মিলেমিশে দাঁড়িয়েছে
এক উজ্জ্বল প্রার্থনায়।
মসজিদের ময়দানে কাঁধে কাঁধ রেখে
ধনী-গরিবের সব বিভাজন মুছে যায়-
সাদা পাঞ্জাবির ভাঁজে লুকানো থাকে
অসংখ্য অপরাধবোধের ক্ষমা,
আর সিজদার মাটিতে মিশে যায়
অহংকারের শেষ দাগ।
এই ঈদ আমাদের শেখায়-
দান শুধু সম্পদের নয়,
এটি হৃদয়েরও বিস্তার;
যাকাতের প্রতিটি অঙ্ক
আসলে ভাঙে বৈষম্যের দেয়াল,
ফিতরার প্রতিটি দানা
হয়ে ওঠে মানবতার ভাষা।
হে মানুষ, তুমি কি শুনতে পাও-
এই দিনের নিঃশব্দ আহ্বান?
ক্ষমা করো, ফিরে যাও,
নিজেকে নতুন করে লেখো-
যেন আগামী দিনের ইতিহাসে
তোমার নাম থাকে আলোর পাশে।
চাঁদটি যে উঠেছিল গতরাতে
সে শুধু আকাশে নয়,
উঠেছিল তোমার ভেতরেও-
অন্ধকার ভেঙে
এক টুকরো ঈমানের মতো।
পবিত্র ঈদুল ফিতর-
এ এক উৎসব নয় শুধু,
এ এক যাত্রা-
নিজের থেকে নিজের দিকে,
পাপ থেকে ক্ষমার দিকে,
অন্ধকার থেকে নূরের দিকে।
