অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী দু-এক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের দশম বিশেষ বৈঠকের পর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রেস সচিব বলেন, ‘আমি আবারও বলছি, আপনারা পাবেন। আমি যতুটুকু জানি, একজন বা দুজন ছাড়া সবাই সম্পদের স্টেটমেন্ট (বিবরণী) দিয়েছেন। এক-দুই দিনের মধ্যে এটি পাবলকি করা হবে।’
এ সময় এটিকে নিজের সম্ভবত শেষ ব্রিফিং উল্লেখ করে দায়িত্ব পালকালে তার আচরণে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে শফিকুল আলম বলেন, ‘যদি কেউ মনোকষ্ট পেয়ে থাকেন, হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে বলছি, আমি আপনাদের কাছে বলছি দুঃখিত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, পরবর্তীকালে যিনি আসবেন প্রেস সচিব বা প্রেস উইংয়ে যারা আসবেন, আপনারা আমাদের কাছে যা পেয়েছেন, তার এক ইঞ্চিও কম নেবেন না। এই ধারাটা যেন বজায় থাকে। খবর সবার জন্য উন্মুক্ত থাকা দরকার। প্রজাতন্ত্রের সরকার কী কাজ করছে, এটা জানার অধিকার সবার।’
আজকের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা-২০২৬ এর খসড়া এবং জাতীয় মৎস্য নীতিমালা ২০২৬ এর খসড়া অনুমোদন হওয়ার কথা বলেন প্রেস সচিব। এ ছাড়া বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী থেকে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রেষণে জনবল নিয়োগ-সম্পর্কিত চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন সংক্রান্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সুপারিশ করা অংশ নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।
উপদেষ্টা পরিষদের এ ব্ঠৈকের আগে সকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বলে জানান শফিকুল আলম। সচিবদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার আলোচনার সারাংশ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সেখানে উনি নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলেছেন। আগের নির্বাচনগুলোতে এক ধরনের মকারি হতো। এগুলো সবগুলোই ভুয়া নির্বাচন। উনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন যে, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। এই নির্বাচন রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে একটা অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’
প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। এবারের নির্বাচনে অনেক বেশি প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে উনি (প্রধান উপদেষ্টা) আশা করছেন, এবারের নির্বাচন অন্যান্য যেকোনো বারের নির্বাচনের চেয়ে অনেক ভালো হবে। উনি বলেছেন, নানা দেশ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন উপলক্ষে প্রচুর পর্যবেক্ষক এসেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপর তাদের যে আস্থা ফিরে এসেছে, এটা তারই প্রতিফলন। শেখ হাসিনার সময় আগে যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে সেগুলোর কোনো গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। সেগুলোতে কোনো নামকরা নির্বাচনি পর্যবেক্ষকও আসেননি।’
তিনি বলেন, ‘গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “গণভোটে হ্যাঁ ভোট জিতলে দেশ পাল্টে যাবে এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুন্দরভাবে নির্মিত হবে। দেশে আর অপশাসন চলবে না’’।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
