চাঁদাবাজ ধরতে ‘অলআউট’ অ্যাকশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

- Advertisements -

দেশব্যাপী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ঘোষণার পর গত ১ মে থেকে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করে ‘অলআউট’ অ্যাকশনে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে সহস্রাধিক চাঁদাবাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীও রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী লাগাতার অভিযান শুরু করে। পুলিশ সদর দফতর থেকে দেশের সব মহানগর এলাকা, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি প্রকৃত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, তাহলে দেশে চাঁদাবাজির ঘটনা অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। পূর্ণ মাত্রায় অভিযান পরিচালিত হলে এই অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও তারা মনে করেন। তবে আগের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক সময় অভিযানে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ধরা পড়লেও মূল পৃষ্ঠপোষকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

বিশ্লেষকরা আশা প্রকাশ করেন, সরকার মূল চাঁদাবাজদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক ও ব্যতিক্রমধর্মী হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চাঁদাবাজ যে দলেরই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, পাড়া-মহল্লাভিত্তিক নজরদারি বাড়াতে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ‌দের‌ বিষ‌য়ে গো‌য়েন্দা তথ‌্য সংগ্রহ করা হ‌চ্ছে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিতে মসজিদ, স্কুল, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পু‌লি‌শের গো‌য়েন্দা বিভাগও তথ‌্য সংগ্রহ ক‌রে অভিযান চালা‌চ্ছে।

Advertisements

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘সরকারের সদিচ্ছার অংশ হিসেবে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান চলছে। ইউনিটভিত্তিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং চাঁদাবাজির মামলাগুলোর তদন্ত অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ প্রভাব খাটাতে পারবে না। কেউ তদবিরের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেবে।’’

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, চাঁদাবাজির শিকার হলে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে হবে। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে।

ডিএমপির তালিকায় ১২৫৪ চাঁদাবাজ

সূত্র জানায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আটটি অপরাধ বিভাগের ভিত্তিতে ১২৫৪ চাঁদাবাজের তালিকা প্রস্তুত করেছে। থানাভিত্তিক এই তালিকা ধরে বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির আলামত জব্দ করা হয়েছে।

ডিএমপির শীর্ষ একজন কর্মকর্তা বলেন, চাঁদাবাজদের ছাড়াতে কেউ তদবির করলে তাকেও চক্রের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কোনও তদবির গ্রহণ করা হবে না।

র‌্যাবের সমন্বিত অভিযান

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘‘পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৫টি ব্যাটালিয়ন একযোগে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।’’

Advertisements

র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবিব পলাশ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘নিয়মিত অভিযানে ইতোমধ্যে অনেক চাঁদাবাজ গ্রেফতার হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই ছাড় পাওয়ার কারণ হবে না।’’

পৃষ্ঠপোষকদের ধরতে না পারলে মিলবে না  সুফল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘অতীতে দেখা গেছে, অভিযানে মাঠপর্যায়ের চাঁদাবাজরা ধরা পড়লেও মূল পৃষ্ঠপোষকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ফলে প্রকৃত অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।’’

তার মতে, ক্ষমতায় থাকা যেকোনও সরকারের সময় সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি হয়, যারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি করে। তাই মূল হোতা ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনাই সবচেয়ে জরুরি।

তিনি বলেন, ‘‘শুধু বক্তব্য বা ঘোষণায় নয়, কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমান সরকারকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।’’

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/o6zn
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন