ডিজিটাল অপরাধ দমনে পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের ঘোষণা

- Advertisements -

ডিজিটাল অপরাধের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা মোকাবিলায় পৃথক ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। বাংলাদেশ পুলিশ এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর এ ঘোষণা আসে।

সোমবার ডিজিটাল যুগে অপরাধের ধরন পাল্টানোর বিষয়টি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন গুজব এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হবে।

রবিবার পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, ব্যাংকসংক্রান্ত আর্থিক অপরাধের পাশাপাশি সাইবার অপরাধের বড় শিকার হয়ে উঠছেন তরুণী ও কিশোরীরা।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন কিশোরী ও তরুণীর মধ্যে তিনজন সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন।

Advertisements

তবে সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে প্রায় ৮৯ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন না। আর যারা অভিযোগ করেন, তাদের মধ্যেও প্রায় ৭২ শতাংশ মামলা পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে নিষ্পত্তিহীন থেকে যায় বা খারিজ হয়ে যায়।

গত পাঁচ বছরের তথ্য অনুযায়ী, তথ্য ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর অধীনে মোট ৪ হাজার ৭৯৪টি মামলা দায়ের হয়েছে।

কিন্তু পৃথক সাইবার অপরাধ ইউনিট না থাকায় এসব মামলার সঠিক তদন্ত ও নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবার দ্রুত সম্প্রসারণ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করেছে।

এছাড়া অনলাইন বুলিং, অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের নিয়ে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট ছড়ানো, ওয়েবসাইট হ্যাক করে তথ্য চুরি, হুমকি দেওয়া এবং মানহানিকর বা মিথ্যা তথ্য প্রচারও বড় ধরনের সাইবার অপরাধ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রচারণা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।’

Advertisements

তিনি বলেন, এসব অপরাধের সঙ্গে চরিত্রহনন, ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা জড়িত।

তিনি আরও বলেন, ‘এসব বাস্তবতা আমাদের এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছে যে, বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় সক্ষমতা জোরদারে জরুরি ভিত্তিতে একটি বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন প্রয়োজন।’

স্বতন্ত্র সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ শরিয়ত উল্লাহ বলেন, সাইবার অপরাধ অত্যন্ত জটিল ধরনের অপরাধ। এসব মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত জনবলসমৃদ্ধ বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মূলত সাইবার অপরাধসংক্রান্ত মামলাগুলো দেখভাল করছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/oydd
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন