প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লেখক মোহন রায়হান। তবে পুরস্কারের অর্থ তিনি ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না বলে জানান। সেটি অসচ্ছল কবি, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের কল্যাণে ব্যয় করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার (১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মোহন রায়হান জানান, রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের মতবিনিময় হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে দুই দফা আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি—আমাদের একটাই চাওয়া, কলমের স্বাধীনতা ও কথা বলার স্বাধীনতা। ভালো কাজে উৎসাহ এবং ভুল হলে সমালোচনার সুযোগ থাকবে—প্রধানমন্ত্রীর এমন আশ্বাসের ভিত্তিতেই আমি পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
তবে পুরস্কারের অর্থ নিজে গ্রহণ করবেন না বলে পুনর্ব্যক্ত করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, যেন অর্থটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের সহায়তায় ব্যবহার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কার করারও দাবি জানান তিনি।
মোহন রায়হান বলেন, প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ, দলনিরপেক্ষ, বিশেষজ্ঞনির্ভর ও সর্বজনগ্রাহ্য হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে যেন কোনো বিতর্ক বা স্থগিতাদেশের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রখ্যাত কবি শামসুর রাহমান-কে ঘিরেও একসময় স্বাধীনতা পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাঁকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মান জানান। সেই উদারতার দৃষ্টান্ত অনুসরণের আহ্বান জানান মোহন রায়হান।
তিনি অনুরোধ করেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই যেন তিনি পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেন। প্রয়োজনে তারিখ পরিবর্তন করা হলেও প্রক্রিয়াটি মর্যাদাপূর্ণ হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
মোহন রায়হান বলেন, এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবু বিভাজনের চেয়ে ঐক্য, প্রতিহিংসার চেয়ে প্রজ্ঞা এবং অপমানের চেয়ে মর্যাদাকেই তিনি প্রাধান্য দিতে চান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে তিনি এ পুরস্কার গ্রহণ করছেন বলেও জানান তিনি।
