দেশের বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহা এবং পরীক্ষাভীতি থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সক্রিয়তা বেশ নজর কেড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ফেসবুকে তাকে নিয়ে হওয়া নানা ধরনের ট্রোল তার নজরে আসে এবং এতে তিনি মোটেও বিচলিত নন, বরং আনন্দিত হন। তিনি মনে করেন, এসব ট্রোলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আসলে এই বার্তাই দিচ্ছে যে তারা সতর্ক আছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে যশোর শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে এবং তারা ঠিকমতো পড়তে বা পরীক্ষা দিতে চাচ্ছে না। তাকে নিয়ে হওয়া ট্রোল প্রসঙ্গে তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারছে তাদের দিকে একটি ‘ঝড়’ আসছে, যদিও সেই ঝড়ের প্রকৃত ঝাপটা আসবে কেন্দ্র সচিব ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের ওপর। সভায় তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন।
বিশেষ করে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের লাগাম টানতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে পড়াতে পারলেও বাইরের কোনো কোচিং সেন্টারে যুক্ত হতে পারবেন না। এছাড়া পরীক্ষা কেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনতে ১৯৪০ সালের পুরনো আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড নেই এবং পরিচিত পরীক্ষকদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই ধারা পাল্টে নতুন পরীক্ষক তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং ‘র্যান্ডম স্যাম্পলিং’ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে কোনো পরীক্ষক নম্বর কম বা বেশি দিচ্ছেন কি না তা যাচাই করা সম্ভব হবে, তবে এটি প্রচলিত পুনর্মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের একই প্রতিষ্ঠানে বারবার ভর্তি হওয়ার বিড়ম্বনা বন্ধের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে ওঠার জন্য নতুন ভর্তির প্রয়োজন নেই, একবার রেজিস্ট্রেশনই যথেষ্ট হতে হবে।
