মশা-জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

- Advertisements -

রাজধানীতে মশার উপদ্রব ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নগরবাসীকেও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ঢাকায় বৃষ্টি ভোগায় কেন?’ শীর্ষক নগর সংলাপে তিনি এ আহ্বান জানান।

আব্দুস সালাম বলেন, রাজধানীকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে হলে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে নগরবাসীকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় ঢাকাকে বিশ্বের অন্যতম দূষিত, দুর্গন্ধময় ও মশাবাহিত শহর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে জনগণ ও সিটি করপোরেশন একসঙ্গে কাজ করলে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।
জনগণ ৫০ শতাংশ এবং সরকার বা সিটি করপোরেশন বাকি ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করলে শতভাগ সফলতা অর্জন করা কঠিন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

ডিএসসিসি প্রশাসকের দাবি, কার্যকর উদ্যোগ নিলে প্রায় ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তার মতে, অধিকাংশ মশার উৎপত্তি জলাবদ্ধতা থেকে হয়। তাই জলাবদ্ধতা দূর করতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে। 

তিনি বলেন, দক্ষিণ সিটিতে এবার প্রথমবারের মতো বর্ষা শুরুর আগেই মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৩৬ জন মাঠকর্মী প্রতিদিন বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরিপ করছেন। মোট দুই হাজার ২৫০টি বাড়ি থেকে লার্ভার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করা হবে।

Advertisements

আব্দুস সালাম বলেন, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি কিংবা এলিফ্যান্ট রোড এলাকার পানি অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এসব পানি শেষ পর্যন্ত বুড়িগঙ্গা বা শীতলক্ষ্যা নদীতে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিষয়টি সরকারপ্রধানকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, কয়েক দশক আগে ঢাকায় প্রায় ৫০টি খাল ও লেক ছিল, যা এখন অনেকটাই হারিয়ে গেছে। একক কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়, এজন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে সারা বছরই রাজধানীর সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি চলতে থাকে। কখনো বিদ্যুৎ, কখনো গ্যাস, আবার কখনো পানির লাইনের কাজের কারণে নগরবাসী দুর্ভোগে পড়ছে এবং জলাবদ্ধতাও বাড়ছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, শুধু কীটনাশক ব্যবহার করে দীর্ঘমেয়াদে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। শহরের পরিবেশ যদি মশার জন্য অনুকূল থাকে, তাহলে তারা বংশবিস্তার করতেই থাকবে। তাই পরিবেশ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে।

Advertisements

ডিএসসিসির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. নূরুল্লাহ বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো অনুমোদন জরুরি। পাশাপাশি ওয়াসার অবসরপ্রাপ্ত ড্রেনেজ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাবও দেন তিনি। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে নিয়ে স্টেকহোল্ডার কমিটি গঠন এবং টেকসই নগর পরিকল্পনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সহ-সভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, ঢাকা ওয়াসার সাবেক এমডি একেএম শহিদ উদ্দিন, বায়ুমণ্ডলী দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার ও স্থপতি খালিদ মাহমুদ শাহীনসহ অনেকে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/c4ax
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন