কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণভোট নিয়ে সরকারের প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক আলী রীয়াজ।
প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, জুলাই সনদে দেখানো ভবিষ্যৎ পথরেখার বিষয়ে জনগণের সিদ্ধান্ত জানতে গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। আশা করি সে প্রচেষ্টায় আমরা সফল হব। আমরা সাফল্য লাভ করব এবং অবশ্যই বাংলাদেশকে একটা নতুন বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।’
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে গণভোট নিয়ে ঢাকার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও ইমাম সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ, যা আপনাদের কাছে পৌঁছেছে কালো অক্ষরের ছাপায়; সেটা আসলে রক্ত বিন্দু দিয়ে লেখা হয়েছে, প্রাণ দিয়ে লেখা হয়েছে। খুলুন, আমি প্রতিবার (জুলাই সনদ) খুলবার সময় মায়ের আর্তনাদ শুনতে পাই, ভাইয়ের দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাই। কারণ কি জানেন? এই জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি হয়েছে ১৬ বছরেরও বেশি সময়ে গুম হয়ে যাওয়া মানুষের পরিবার পরিজনের হাহাকার থেকে, এই জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে যে মা তার সন্তানকে হারিয়েছে, তার প্রতিদিনের যে অশ্রু তা দিয়ে।
তিনি বলেন, এই জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে তরুণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রাজপথে যারা কাজ করেন— ছোট ব্যবসায়ী, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যে প্রাণ দিয়েছেন, সেই প্রাণের বিনিময়ে। সেই প্রশ্নটা সামনে রাখুন। সেই প্রশ্নটা সামনে রেখে জিজ্ঞাসা করুন, মানুষকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনাকে জিজ্ঞাসা করুন, বিবেককে আসুন আমরা জিজ্ঞাসা করি; রক্তে লেখা এই সনদ যে পথরেখা দেখাচ্ছে, আমি তার সঙ্গে আছি নাকি নাই। এইটাই হচ্ছে ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ এর বিষয়। আমি আছি অথবা আমি নাই।’
দেশের সব জনগণ এর সঙ্গে আছে মন্তব্য করে আলী রীয়াজ বলেন, আমরা সবাই আসলে আছি। আসুন সবাইকে বলি, আমরা সবাই আছি। কেননা দেশের চাবি আপনাদের হাতে; সবাইকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার আপনারা সিদ্ধান্ত নিন। সেই সিদ্ধান্তের সুযোগ সকলের। আপনাদের কাজ হচ্ছে সকলের কাছে সেটা বোঝানো, অংশগ্রহণ করা এবং সেভাবেই এটাকে (জুলাই সনদ) বাস্তবায়িত করা।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
