আপনি নিজেও গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন-এমন প্রশ্নে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রথমত-প্রধানমন্ত্রী যে গতিতে এগোতে চাইছেন সেই গতিটা ধারণ করতে পারছি। সে গতিতে আমিও চলতে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং অনেকটা অভ্যস্ত।
কারণ যে আদর্শ ধারণ করে উনি রাজনীতি করেন আর যে প্রতিকূলতার মধ্যে উনি রাজনীতি করেছেন আর যে জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছেন ওটারও একটা অংশ আমি। কিন্তু আমি যখন মাঠ লেভেলে বা মন্ত্রণালয় লেভেলে কাজ করছি সেখানে তাদেরকে গতিতে আনতে তো আমার একটু সময় লাগছে। মন্ত্রণালয়ের সব ধরনের কর্মকর্তা যারা আছেন তারাও গতিশীল হতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। হয়তো একটু সময় লাগছে।
সহকর্মী মন্ত্রী ও এমপিদের কাছ থেকে সড়ক নির্মাণ বা মেরামত নিয়ে কেমন অনুরোধ পাচ্ছেন, জানতে চাইলে শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রচণ্ড রকমের আবেদন তাদের। ১৭ বছর ইনফ্রাস্ট্রাকচারে খুব বেশি ডেভেলপমেন্ট হয় নাই। প্রকল্পগুলো কাগজ-কলমে হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনবান্ধব হয়নি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন হয়নি। যার ফলে যারা এবার নির্বাচিত হয়ে এসেছেন জনগণের কাছে তাদের অঙ্গীকার আছে। এ কারণে প্রচুর পরিমাণে ডিও দিচ্ছেন।
কিন্তু সেই পরিমাণ ডিওকে আমলে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করাটা বেশ দুরূহ। কারণ আর্থিক সক্ষমতা অথবা বাজেটের তো একটা ব্যাপার আছে। তার মধ্যে থেকে সেটা শতভাগ বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন। এক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে যেটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এমপির ওই এলাকার জনগণের জন্য অগ্রাধিরকার ভিত্তিতে প্রয়োজন- সেটাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। স্থানীয় জনগণের অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে যিনি এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তারও তো ১০টা অঙ্গীকার আছে। ১০টা রাস্তার প্রয়োজন আছে।
কিন্তু আমার বাজেটের মধ্যে যদি মনে হয় যে না ১০টা এবারে করা সম্ভব হচ্ছে না, একবারে সব সম্ভব হবেও না, সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তিনটা চারটাকে বেছে নিয়ে আমরা কাজ করছি। সুশাসন, টেকসই উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতি অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজের অভিযোগ কীভাবে ক্ষতিয়ে দেখছেন, জানতে চাইলে শেখ রবিউল আলম বলেন, এরই মধ্যে এসব খতিয়ে দেখা হয়েছে। সেগুলোর তদন্তও চলছে। আমার সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার-এখন থেকে এসব আর হবে না- এটা আমি নিশ্চিত করব ইনশাল্লাহ। যে প্রক্রিয়ায় আগে প্রকল্প হতো-অপচয়, দুর্নীতি, অপ্রয়োজনীয়, জনবান্ধব না- সেই ধরনের প্রকল্প এখন এ সরকার নেবে না। এটা প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার।
আর প্রধানমন্ত্রী যেটা অঙ্গীকার করেন, যে লক্ষ্যে দেশ পরিচালনা করতে চান তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে আমার কর্তব্য। আমার জন্য সেটা অবধারিত। এখন থেকে যে সব প্রকল্প হবে তাতে দুর্নীতি ও অপচয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আপনি যেহেতু তিনটা মন্ত্রণালয় এই মুহূর্তে দায়িত্বে আছেন। সেক্ষেত্রে তিনটা মন্ত্রণালয়ে আপনার উল্লেখ করার মতো বিশেষ প্রোগ্রাম কী নিয়েছেন বা বিশেষ ধরনের কী প্রকল্প নেওয়া হয়েছে? শেখ রবিউল আলম বলেন, রেল, নৌ এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় একটা আমূল পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি।
এজন্য নানা মেয়াদি কার্যক্রম এরই মধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামীতে আমার এখানে উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার সুযোগ হবে না বলে আশা করছি। আমরা চাইব-অতীতের দায় যাদের আছে সেটা তাদের। আমাদের ক্ষেত্রে যাতে এটা না হয়।
