জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নাগরিকরা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায়। এই নির্বাচনে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং ভোট জালিয়াতি রোধে পর্দানশীন নারীদের পরিচয় শনাক্তকরণ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
পরিচয় শনাক্তের নিয়ম
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রথম পোলিং অফিসারের কাজ হলো ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা।
এক্ষেত্রে:
১. নারী ভোটারের চেহারার সঙ্গে ভোটার তালিকার ছবির মিল আছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
২. পরিচয় নিশ্চিত করার প্রয়োজনে নারী ভোটারকে সাময়িকভাবে মুখের নিকাব সরাতে হতে পারে।
৩. পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পোলিং অফিসার উচ্চস্বরে ভোটারের নাম ও নম্বর ঘোষণা করবেন এবং আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেবেন।
জালিয়াতি করলে কঠোর শাস্তি
যদি কেউ পরিচয় গোপন করে বা ছদ্মবেশ ধারণ করে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রে দায়িত্বরত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা হবে।
এই অপরাধে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বনিম্ন ৬ মাস পর্যন্ত জেল ও জরিমানা হতে পারে।
একনজরে ভোটার পরিসংখ্যান
এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। যার মধ্যে—
নারী ভোটার: ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন।
পুরুষ ভোটার : ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন।
হিজড়া ভোটার : ১ হাজার ২২০ জন।
উল্লেখ্য, সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন) এবং সবচেয়ে কম ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন)। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৮ লাখ নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকছেন।
