বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটারদের লম্বা লাইন। প্রতিটি বুথের সামনে ভিড়ও লক্ষণীয়।
এদিকে রাজধানীর ঢাকা-১০ আসনের দুটি কেন্দ্রে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৬ শতাংশ। ঢাকা-১৫ আসনের ১২৭টি ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টা পর্যন্ত ১০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৯৩ জন।
এ ছাড়া রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে সাড়ে চার ঘণ্টায় ভোট দিয়েছেন প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোটার। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মোতাওয়াক্কিল রহমান জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজশাহীর আসনগুলোতে ভোট দিয়েছেন ২৯ থেকে ৩৭ শতাংশ ভোটার।গড় হিসেবে ভোট দেওয়ার হার ৩২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। শুধু ঢাকা ও রাজশাহী-ই নয়, সারা দেশের প্রায় সব ভোট কেন্দ্রের চিত্র এটি। সবাই উৎসবের আমেজে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসছেন।
ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত তারা
সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মহিলারা ইউনিয়নের ভীমের পার গ্রামের ৯০ বছর বয়সী ভোটার কমলা রানী লাঠিতে ভর দিয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরের একটি কেন্দ্রে যান। পুত্রবধূ আখিরানী ভক্ত তাকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর, নিজে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত তিনি।
কমলা বলেন, ৯০ বছর বয়স পার হয়ে অনেক নির্বাচন দেখেছি, কিছু নির্বাচনে ভোট দিয়েছি, আবার অন্যরা আমার ভোট দিয়ে দিয়েছে। তবে এবার এই বয়সে সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে পাব, এটা কখনো ভাবিনি। এখন শান্তি অনুভব করছি। ভোট কেন্দ্রে এসে পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা সকলেই নিজেদের পছন্দের মার্কায় ভোট দিয়েছে। এ কথা শুনেও বেজায় খুশি আমি। শেষ বয়সে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলাম।
শুধু কমলা রানীই নন, ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, সব বয়সী ভোটাররা। দশ বছর বয়সী নাতনি স্নিগ্ধার হাত ধরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে এমপ্লয়ীজ গার্লস হাই স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা বিউটি দাশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ভোট দিতে আসেন তিনি। কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের পরিস্থিতি দেখে মহাখুশি এই বৃদ্ধা। খুশি মনে বুথে ঢুকে ভোট দিয়ে বের হন। এসময় কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই বলে উঠলেন—‘ভোট দিতে পারলে শান্তি লাগে। আমি ভালোভাবে হাঁটতে পারছি না, তাই নাতিনকে নিয়ে ভোট দিতে এসেছি। পরিবারের সবাই নিষেধ করা সত্ত্বেও ভোট দিতে আসছি। ভোট দিতে পেরে এখন ভালো লাগছে।’
ব্রাহ্মণাবাড়িয়ার একটি কেন্দ্রে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে আসা ৮০ বছর বয়সী রমচান বেগম বলেন, ‘আমি অসুস্থ। মেয়েরে লইয়া আইছি। সুন্দর মতে বুট দিতাম পারছি। খুব বালা লাগতাছে।’
একই কেন্দ্রে ভোট দিয়ে স্বস্তির কথা জানান, ৭৫ বছর বয়সি সফুজা বেগম। তিনিও অসুস্থ। তবু ভোট দিতে পেরে মহাখুশি তিনি। বলেন, ‘সরকার বুটে দারাইছে। আমরা শান্তি চাই। এর লাইগ্যা বুট দিছি। বুটটা পচায়া লাব কি।’
কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণ হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নরসিংদী সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহিন বলেন, প্রথম প্রেমের সময় যে অনুভূতি পেয়েছিলাম, আজ সেই একই অনুভূতি প্রথম ভোট দিয়ে পাচ্ছি। এটি স্মরণীয় মুহূর্ত।
তিনি আরো বলেন, বিগত সময়ের ঘটনা আমরা দেখেছি, কিন্তু সেই ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারিনি। আজ প্রথমবার ভোট দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পেরেছি। তাই আমার ভোটের অনুভূতিটি জীবনে বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শাহিন তার প্রত্যাশার কথাও প্রকাশ করেন, আমি আশা করি এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সূর্য উদয় হবে এবং সমস্ত জুলুম ও অত্যাচার শেষ হবে।
