তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে, এর ফলে আমদানি ব্যয়, শিপিং ও বিমা খরচ বৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি হ্রাস, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারত, নেপাল, ভুটানসহ পূর্ব এশিয়া ও আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহে রপ্তানি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, কৃষিজ ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক, হিমায়িত খাদ্য, চিংড়ি ও মৎস্য পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও হালকা প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি করে রপ্তানি বহুমুখীকরণ করা হচ্ছে।
খাতভিত্তিক রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে জাহাজশিল্প ও পাদুকা খাতে প্রযোজ্য কাঁচামাল ও উপকরণ বিনামূল্যে (ফ্রি অব কস্ট) ভিত্তিতে আমদানির অনাপত্তি প্রদান করা হয়েছে।
প্রেফারেনশিয়াল বাজার সুবিধা নিশ্চিত করতে রপ্তানিকারকদের অনুকূলে উৎপত্তি সনদ (রুলস অব অরিজিন) অনলাইন দেওয়া হচ্ছে।
দ্বি-পক্ষীয় বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো, যেমন ভারত, ভুটান, নেপাল, কম্বোডিয়া ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথ কার্যকরী কমিটি এবং বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক যথাসময়ে সম্পন্ন করে যৌথ বাণিজ্য থেকে উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-কোরিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) আলোচনা আয়োজন ও তাতে অংশগ্রহণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা আয়োজন ও অংশগ্রহণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ-সংযুক্ত আরব আমিরাত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) আলোচনাও আয়োজন ও অংশগ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলমান প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্টের (পিটিএ) তিনটি রাউন্ডের আলোচনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চতুর্থ রাউন্ডের আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
ভুটানের সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধি ও বাণিজ্য বাধা দূরীকরণের লক্ষ্যে ১০ম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের সভা ৯-১০ মার্চ ২০২৬ সময়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ-ভুটান প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত যৌথ বাণিজ্য কমিটির প্রথম সভা শিগগিরই ঢাকায় আয়োজন করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই চুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে তা অনুসমর্থনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, জাপান-বাংলাদেশ ইপিএ বাংলাদেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হতে যাচ্ছে। একই ধারাবাহিকতায় আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
সরকার পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের বাণিজ্য ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।
ওই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট, বিলবোর্ডের বাতি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান বা অনুষ্ঠেয় বাণিজ্য মেলা, প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মেলায় আলোকসজ্জা পরিহার করতে বলা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অসাধু মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত থাকে।
অফিস সময় কমানো, অপ্রয়োজনীয় বাতি, ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং সংশোধিত বাজেটের আওতায় বিভিন্ন খাতে (বিদেশ প্রশিক্ষণ, যানবাহন ক্রয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি) ব্যয় কমানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
