পবিত্র ঈদকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে বাগেরহাট, কুমিল্লার পদুয়ারবাজারসহ আরও কয়েকটি অঞ্চলে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় হতাহতদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি মানুষের মাঝে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও শঙ্কা।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে অতিরিক্ত গতি, আইন অমান্য করা এবং চালকদের অসতর্কতা। প্রতি বছরের মতো এবারের ঈদেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে—যেখানে অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা মিলে সড়কগুলোকে পরিণত করেছে মৃত্যুর মিছিলে।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে, কিছু স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম প্রশংসনীয় হলেও অনেক জায়গায় আইন প্রয়োগে ধীরগতি ও শৈথিল্য ছিল স্পষ্ট। ফলে অনিয়ন্ত্রিত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং নিয়ম না মানার প্রবণতা বেড়েছে।
প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে নিসচার বিভিন্ন শাখার স্বেচ্ছাসেবকরা দেশের নানা স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে থাকেন। যেখানে এই সমন্বিত উদ্যোগ কার্যকর হয়েছে, সেখানে সড়কের বিশৃঙ্খলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, সারাদেশে সব জায়গায় নিসচার টিম কাজ করতে পারে না। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরই বর্তায়।
অন্যদিকে, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সবকিছু মিলিয়ে এবারের ঈদ যাত্রা অনেক ক্ষেত্রেই ভোগান্তিময় হয়ে উঠেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। একটি উৎসবমুখর সময়কে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে হলে এখনই প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা।
সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়।
ঈদ যাত্রাকে একটি বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো করে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে বলে উদাত্ব আহবান রইলো সরকারের প্রতি প্রশাসনের পতি।
লিটন এরশাদ
মহাসচিব
নিরাপদ সড়ক চাই
