নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে চলমান আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত, কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে গতকাল ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জাতীয় সামাজিক সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)–এর ১৩তম প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাগিচা রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জেলা ও শাখা সংগঠনের সভাপতি/আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিবরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এবং মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব মিরাজুল মইন জয়। তিনি তার বক্তব্যে বলেন “এই প্রতিনিধি সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা নিসচার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে নতুন গতিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছি। সারাদেশের শাখাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমই পারে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে।”

তিনি সম্মেলনে আগত নেতৃবৃন্দের বক্তব্য মনোযোগসহকারে শোনেন এবং সেসব বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দিকনির্দেশনামূলক উত্তর প্রদান করেন।
সম্মেলনের সবচেয়ে আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত আসে বিকাল ৪টায়, যখন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, বরেণ্য চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর এই প্রথম তিনি নিসচার কোনো সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তার উপস্থিতি ও বক্তব্য সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সকলের মাঝে সৃষ্টি করে ভিন্নরকম আবেগ ও ভালোবাসার অনুভূতি।
ইলিয়াস কাঞ্চন তার বক্তব্যে বলেন “নিরাপদ সড়ক চাই শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলন। আমি চাই দেশের প্রতিটি শাখা আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুক। মানুষের জীবন বাঁচানোই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।” তার এই বক্তব্য সম্মেলনে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা যোগ করে।
এই প্রতিনিধি সম্মেলনের উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এডভোকেট তৌফিক আহসান টিটু। সদস্য সচিব ছিলেন আসাদুর রহমান। কমিটির সদস্য হিসেবে আরও ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান: মিরাজুল মইন জয়, ভাইস চেয়ারম্যান: লিটন এরশাদ, মহাসচিব: এস এম আযাদ হোসেন, সমন্বয়ক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে আগত কিছু সংখ্যক কর্মীকে ‘সড়কযোদ্ধা ক্রেস্ট’ প্রদান করা হয়।
এছাড়াও প্রদান করা হয় জাহানারা স্মৃতি পদক, কামাল হোসেন পদক এবং কয়েকটি শাখাকে সেরা সংগঠন ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এই সম্মাননাগুলো নিসচার তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, এই প্রতিনিধি সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে সিরাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশন সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
