সাম্প্রতিক ঈদকে ঘিরে দেশে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের পথিকৃৎ ইলিয়াস কাঞ্চন।
বর্তমানে তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকলেও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির উপর সবসময়ই নজর রাখছেন। ঈদে ২৭৪ জনের নিহত হওয়ার মর্মান্তিক খবর তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি এই প্রাণহানীকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো ভাগ্যের বিষয় নয়—এটি মূলত অব্যবস্থাপনা, অবহেলা এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবের ফল। তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান, দ্রুত কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।
পাশাপাশি, তিনি তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠন “নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)”–এর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও কাজের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার চাইলে নিসচা সর্বদা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দায়িত্বশীল মহল বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা কমিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়—সচেতনতা, নিয়ম মেনে চলা এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধও সমানভাবে জরুরি।
এই ভয়াবহ প্রাণহানী যেন আর কোনো পরিবারকে শোকাহত না করে এটাই সবার প্রত্যাশা তার।
ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে লন্ডনে তার মেয়ে ইমার বাসায় অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স, যিনি নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি, নিরাপদ নিউজকে তিনি বলেন, “বাবা (ইলিয়াস কাঞ্চন) প্রায় এক বছর ধরে লন্ডনে রয়েছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও সবসময় দেশের খবরাখবর রাখছেন, বিশেষ করে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অত্যন্ত সচেতন।”
সম্প্রতি ঈদকে ঘিরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এ বিষয়ে তিনি ভীষণভাবে চিন্তিত বলে জানান তার জামাতা। আরিফুল ইসলাম কলিন্স বলেন, “ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তা সত্যিই উদ্বেগজনক। এত প্রাণহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অথচ এই আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
নতুন সরকারের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “দেশে নতুন সরকার এসেছে। আমরা আশা করি, তারা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই আইনটি দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”
ইলিয়াস কাঞ্চনের জামাতা জানান, ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকায় “নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)”–এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তার পুত্র মিরাজুল মইন জয়।
তিনি বলেন, “বাবার (ইলিয়াস কাঞ্চন) অনুপস্থিতিতেও জয়ের নেতৃত্বে নিসচার সারাদেশব্যাপী সকল শাখার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনের কাজ কোথাও থেমে নেই, বরং পূর্বের মতোই সচল রয়েছে।”
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদেও নিসচার বিভিন্ন শাখা সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে নিসচা নিয়মিতভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছে, যাতে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়।”
সবশেষে তিনি দেশবাসীর কাছে ইলিয়াস কাঞ্চনের দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন তিনি সুস্থ হয়ে আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ফিরে আসবেন।
