English

30 C
Dhaka
শুক্রবার, মে ২০, ২০২২
- Advertisement -

‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনার অনুষ্ঠিত

- Advertisements -
Advertisements
Advertisements

স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক সংগঠন প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম এর উদ্যোগে আজ ১৩ আগস্ট ২০২০ ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী’ শীর্ষক অনলাইন সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ‘ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী’ এই বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মসয়ূদ মান্নান, এনডিসি। প্রত্যাশা ২০২১ ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আজাদ হোসেন এর সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজকর্মি, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বাংলাদেশ টেলিভিশন এর সাবেক মহাপরিচালক ম.হামিদ, অর্থনীতিবিদ ও গবেষক ড. আহমেদ আল কবির ও মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ।
রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান তার মূল প্রবন্ধে বলেন, বঙ্গবন্ধুর মত বিশাল ব্যক্তিত্বের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল বিভিন্ন আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার জন্য জাতিকে প্রস্তুত করা এবং স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই ৩ মাস সময়ের মধ্যে বন্ধু রাষ্ট্রের সেনাদলকে নিজ দেশে ফেরত পাঠান এবং এক বছর সময়কালের মধ্যে সংবিধান প্রস্তুত ও পার্লামেন্টে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ করাতে সক্ষম হন।
ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, পরিবহণ খাত মাফিয়া চক্রের দখলে, পাট শিল্প, চামড়া শিল্প ধ্বংসের মুখে।দুর্নীতি সীমাহীন।বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে এসব ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে।বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে অনেক ভাল করছে। যদিও কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আমাদের অর্থনীতিকে বড় ধরণের ধাক্কা দিয়েছে কিন্তু সেটি আমরা অনেকাংশে সামাল দিতে সক্ষম হয়েছি। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের আমাদের যে প্রত্যাশা সেখানে সবাই একযোগে কাজ করতে হবে।
ম. হামিদ, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে প্রত্যাশা তা পূরণে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। এখন সুশাসনের মাধ্যমে দেশটি একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন ২১ বছর দেশ স্বৈর শাসক ও অগণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। এই ২১ বছর একটি প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ভুল ইতিহাস নিয়ে বেড়ে উঠেছে।

ড. আহমেদ আল কবির, একটি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।বংবন্ধু কর্মবান্ধব শিক্ষার চিন্তা করেছিলেন বলে তিনি সেমিনারে উল্লেখ করেন।
ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্তির যে প্রত্যাশা আমরা খুব শীঘ্রই অর্জন করতে সক্ষম হব। কারণ বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ নেই। বাংলাদেশ এখন কৃষি, মৎস্য ও অর্থনীতিতে প্রায় স্বয়ংসম্পুর্ণ।প্রযুক্তি ও স্বাস্থখাতসহ অনেক ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে এস এম আজাদ হোসেন মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপক এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু এক বিশাল ক্যানভাস।এত অল্প সময়ে এমন বিশাল আলোচনা সম্ভব নয়, এ আলোচনা চলতেই থাকবে।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, শোষণ বঞ্চনাহীন অসাম্প্রদায়িক দেশ বিনির্মানের।তিনি বলেন, বাঙ্গালি এক অতি পরম সৌভাগ্যবান জাতি।আমাদের কিছু কীর্তি ও অর্জন আছে যা বিশ্বে অনেকের নেই। মাতৃভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সাফল্য দুনিয়ার বুকে ক’টা জাতির আছে? সবচেয়ে বড় কথা আমাদের জাতির পিতা শেখ মুজিবের মত এত বড় মাপের নেতা পৃথিবীর কোন দেশের বা জাতির আছে ?
বঙ্গবন্ধুর মত দ্বিতীয় আরেক ক্যারিশমেটিক নেতা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে খুঁজে বের করা কঠিন। তার এক সম্মোহনী শক্তি এবং অনন্য বাগ্মীতা তাকে অন্যদের চেয়ে পৃথক করে রেখেছ । বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিত্বের বিশালতা প্রসঙ্গে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মহান বিপ্লবী নেতা প্রয়াত ফিদেল ক্যাস্ত্রো বলেন ‘আমি হিমালয় দেখিনি , তবে শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি হিমালয়ের সমান। এভাবে আমি হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতাই লাভ করলাম।
আওয়ামী মুসলিম লীগের তৎকালীন সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী যখন তার দলের সেক্রেটারী শেখ মুজিব সম্পর্কে বলেন , ‘মজিবরের মত সেক্রেটারী আমি আর জীবনে পামু না ‘ তখন আমরা টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিবের মধ্যে জাতির দুর্দিনের কান্ডারী শেখ মুজিবকে আবিস্কার করি।
এই বিশ্ববরেণ্য নেতাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করে এদেশের কিছু বিপথগামী কুলাংগার। শোকের মাসে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।
এছাড়াও প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম এর সামসুন নাহার আজীজ লীনা, সুশীল সমাজের ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কৃষিবিজ্ঞানী এস বি নাসিম, রেজাউল করিম হাসমি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং তারা বলেন, আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী। ২০২০ সালে পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে উদযাপিত হবে মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের কথা বলেছেন। আগামী ২০২১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপিত হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে জাতির সন্তানেরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে, তাদের পক্ষে দারিদ্র্যও দূর করা সম্ভব। সেই বিশ্বাস ও প্রেরণা থেকেই আমরা বিশ্বাস করি, ¯’ানীয় সরকার, প্রতিষ্ঠান সমূহের সক্রিয় নেতৃত্ব যথাযথ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করলে বঙ্গবন্ধুর সেই ক্ষুধাদারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত একটি স্বনির্ভরশীল স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ফোরাম মহাসচিব রুহী দাস,স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব আতাউর রহমান মিটন।
অতঃপর অনলাইন সেমিনারে অংশ নেয়া প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম এর সকল সদস্য, শুভান্যুধায়ী, বন্ধুমহল সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভাপতি সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সাবস্ক্রাইব
Notify of
guest
0 মন্তব্য
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন