গণঅভ্যুত্থানে রহস্যজনক ভূমিকার কাফফারা হিসেবে হাসনাত আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেদিকে ইঙ্গিত করে নিজের ব্যাক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি রাশেদ খাঁন এমন প্রশ্ন করেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘হাসনাত আব্দুল্লাহকে সেনাপ্রধান নাকি রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের প্রস্তাব দিয়েছিলো। সেটি তিনি আবার খোলাসা করে বাহবাও পেয়েছে। খুব ভালো কথা, তারা রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ চায় না। কিন্তু এনসিপির কেউ কেউ দাবি করছে, আওয়ামী লীগ নেতা, সাবেক চসিক মেয়র মনজুর আলম, যিনি ২০১৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগ, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার নমিনেশন তুলেছিলেন, তিনি এনসিপির হয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন করবেন বলে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বাসায় গিয়েছিলো! যাইহোক আবার তাকে বলা হচ্ছে সে বিএনপি করতো। ঠিক আছে, তিনি মাঝখানে কিছুদিন বিএনপি করেছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে শেখ হাসিনার পতন পর্যন্ত এবং আজ অবধি তিনি আওয়ামী লীগ করেন। একটা মানুষের সর্বশেষ পরিচয়ই তার পরিচয়। যেমন ৯০ এর আন্দোলনে শেখ হাসিনার অবদান আছে। কিন্তু এটার জন্য কি ২৪ এর অপরাধ ক্ষমাযোগ্য?’
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা এ নেতা বলেন, ‘সবমিলিয়ে ভোটের রাজনীতিতে যেহেতু সব দলেরই আওয়ামী লীগকে প্রয়োজন, সুতরাং আওয়ামী লীগকে গরীবের সুন্দরী বউ না বানিয়ে যদি রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ করার সুযোগ দেওয়া হয়, সেটা কি হাসনাত আব্দুল্লাহ মানবে? যদি মানে, তাহলে মনজুর আলমকে দলে নেওয়ার বিষয়টি সমর্থন দেওয়া যায়, না মানলে জুলাই যোদ্ধারা সমর্থন দিবে না, সেটি নিয়ে সমালোচনা করবেই।’
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আপনাকে বুঝতে হবে, একজন ইমামের গায়ে দাগ লাগলে দেখা যায় বেশি, সেটি নিয়ে হৈচৈও হয় বেশি, যেহেতু হাসনাত আব্দুল্লাহ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনের ইমাম বা আহ্বায়ক, এজন্যই তো এতো কথা! যদিও গণঅভ্যুত্থানে ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে তার রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে আজও সবার মনে প্রশ্ন আছে (শোনা যায় এই রহস্যের কাফফারা হিসেবে নিষিদ্ধের আন্দোলন গড়ে তোলেন)। এখন আওয়ামী লীগ নেতা চসিক মেয়র মনজুর আলমদের বাসায় যাওয়া আসা বাড়লে, সেই রহস্য বারবার সামনে হাজির হবে। তবে বর্তমানে সবকিছুর একটা উত্তর, তিনি রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ চান কি না? যদি চান, তবে কিছু লোক রিফাইন্ড আওয়ামীলীগ করুক, কিছু লোক এনসিপি বা জামায়াতে যাক, কারও কোন আপত্তি থাকবেনা।’
