নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বিএনপি নতুন মন্ত্রিসভার কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত করেছে। পুরোনো অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন ও তরুণ মুখ রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টেকনোক্র্যাট কোটায় কয়েকজনকে যুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ২০০১-২০০৬ মেয়াদের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজনকে আবার অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় রয়েছে। স্পিকার হিসেবে ড. আব্দুল মঈন খানকে দেখা যেতে পারে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে মির্জা আব্বাস, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং শিক্ষায় আ ন ম এহসানুল হক মিলনের নাম সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকেও মন্ত্রিসভায় নেওয়ার আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নজরুল ইসলাম খানের নাম ঘুরছে।
নতুন মুখ হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসনে ইসমাইল জবিউল্লাহ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবির এবং স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানির নাম শোনা যাচ্ছে। চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আইনজীবী ফজলুর রহমানও আলোচনায় রয়েছেন। জাতীয় সরকার গঠনের অংশ হিসেবে ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নূর, ড. রেজা কিবরিয়া ও মোস্তফা জামাল হায়দারের নামও সামনে এসেছে।
নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের ভোটে অতীতের হিসাব অনেকটাই পাল্টে গেছে। বিএনপি ২০০–এর বেশি আসনে জয় পেলেও অন্তত ৫০টি আসনে ব্যবধান ছিল ১০ হাজারের নিচে এবং ২১টি আসনে পাঁচ হাজারের কম ভোটে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে। নিজেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেও পরিচিত কয়েকটি জেলায় আসন হারিয়েছে দলটি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি জেলায় বড় ব্যবধানে জয় এসেছে। জাতীয় পার্টি এবার কোনো আসনেই জয় পায়নি। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের মতে, জামায়াত দলীয়ভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পেতে পারে।
সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একই দিনে অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোটে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ, দুই ভোটের মধ্যে পার্থক্য ০.৮২ শতাংশ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। নির্বাচন তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ হলেও বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের বিরুদ্ধে কারচুপি, জালিয়াতি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলেছে। কমিশনের ভাষ্য, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
ফলাফল অনুযায়ী, প্রায় দুই দশক পর এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৭ আসনের মধ্যে দলটি পেয়েছে ২০৯টি, শরিকদের তিনটি নিয়ে মোট ২১২ আসন। আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা দুটি আসনের ফল এলে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে নারী, নবীন-প্রবীণ ও ধর্মীয় বৈচিত্র্য রয়েছে।
