জামায়াতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখি, যেখানে মানুষ ভালোবাসা, আস্থা ও সমর্থনের ভিত্তিতে একে অন্যের পাশে দাঁড়াবে। সেই সুযোগ যদি আমাদের দেওয়া হয়, তবে আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য পাহারাদার হবো। ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত। একজন মানুষের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করা মানে একটি পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া। যারা লাখ লাখ পরিবারের দায়িত্ব বহন করছেন, তাদের প্রতি আমাদেরও দায় আছে—নিশ্চয়ই আছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত এক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য সমৃদ্ধি সংলাপ: কৌশলগত ভাবনা’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অনুষ্ঠানে বিসিআই’র সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বারভিডার সভাপতি আবদুল হক, বিকেএমই’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মহিউদ্দিনসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাত আমরা এক জায়গায় আনতে চাই। আমরা এই জাতিকে আর বিভক্ত দেখতে চাই না। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি নিয়ে সামনে এগোতে চাই। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
তিনি বলেন, শিল্প মালিকদের তিনটি বড় সংকট স্পষ্ট। প্রথমত, পুঁজি ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতা। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। তৃতীয়ত, সর্বত্র লাল ফিতার জট। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিল্প চালু করা যায় না, অথচ ব্যাংকঋণের সুদ চলতেই থাকে। ফলে শুরুতেই লোকসান। লাল ফিতা শুধু সময় নষ্ট করে না, অদৃশ্য করের মতো পথ আটকে দাঁড়ায়। টেবিলের নিচের লেনদেন শিল্পের প্রথম ধাক্কা। এই কারণেই দেশে ইচ্ছা ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বিনিয়োগে নিরাপত্তা পান না।
শফিকুর রহমান বলেন, নিজের দেশের বিনিয়োগকারী যদি ভরসা না পান, বিদেশিরা কেন আসবে? এই জায়গাটাই পরিষ্কার করতে হবে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ লাল ফিতাকে কাচি দিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলব, কারো হাতে বন্দি রাখব না।
তিনি বলেন, আমাদের কোনো গোপন স্বার্থ নেই। জনগণের দেওয়া সম্মানের মর্যাদা রাখাই একমাত্র দায়। শুদ্ধি শুরু হবে ওপর থেকে, কথায় নয় কাজে। যারা পরিশ্রম করে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের পাশে থাকাই আমাদের অঙ্গীকার। আর যারা জনগণের সম্পদ বাইরে পাচার করেছেন, তাদের বোঝাতে হবে-দেশের সম্পদ দেশে ফেরানোই সম্মানের পথ।
