প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্পদ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রিধারী এই প্রার্থীর হলফনামা থেকে পাওয়া গেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, মোস্তফা ফয়সালের নামে ২০১২ সালে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০২৫ সালে তিনি ওই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
নির্বাচনে প্রার্থীতার জন্য হলফনামায় মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে তার কোনো নিয়মিত আয় নেই। তবে বিদেশ থেকে তিনি বার্ষিক ৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা আয় করেন বলে উল্লেখ করেছেন। এই আয় শিক্ষকতা, চিকিৎসা, আইন কিংবা পরামর্শক পেশা সংশ্লিষ্ট খাত থেকে অর্জিত বলে তিনি হলফনামায় জানিয়েছেন।
সম্পদের বিবরণে দেখা যায়, বর্তমানে তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া তার ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ টাকা। বৈবাহিক সূত্রে তার স্ত্রী তাসলিমা জাহান সুরাইয়ার মালিকানায় রয়েছে ৫০ ভরি স্বর্ণ। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯৫ লাখ টাকা।
জামায়াতের এই প্রার্থী তার হলফনামায় স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন, দেশে তার মালিকানায় ১ শতাংশ জমির ওপর একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। একই সঙ্গে তুরস্কে তার নামে একটি ফ্ল্যাট আছে। যা তিনি দানসূত্রে পেয়েছেন। ওই ফ্ল্যাটটির ক্রয়কালীন মূল্য ছিল প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। তার নিজ নামে থাকা মোট স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য হিসাব করা হয়েছে ৯৫ লাখ টাকা। এছাড়া যৌথ মালিকানায় তার নামে ০.৩৭ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে। যার মূল্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর নামে বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব ফ্ল্যাটের মোট মূল্য দেখানো হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। সেখানে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন ৫ হাজার টাকা।
