হাফিজ রহমান: জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৯ ফেব্রুয়ারি নাগরিক মঞ্চ আয়োজিত সমাবেশে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন জানিয়েছে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক প্রতিষ্ঠিত কৃষক শ্রমিক পার্টি কেএসপি। ঐতিহ্যবাহী এ রাজনৈতিক দল কৃষক শ্রমিক পার্টি কেএসপির কেন্দ্রীয় সভাপতি লায়ন সালাম মাহমুদ তার বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, কৃষক শ্রমিক পার্টি কেএসপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটকে সমর্থনের বিষয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ইতিমধ্যেই সকল জাতীয় পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশন মিডিয়া ও অনলাইন গণমাধ্যমে সমর্থনের সংবাদটি প্রেরণ করা হয়েছে এবং দৈনিক নয়াদিগন্ত, দৈনিক ভোরের ডাক, দৈনিক কালের সমাজ, দেশ টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কেএসপির কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাম মাহমুদ কৃষক শ্রমিক পার্টির সকল নেতাকর্মীকে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য আহবান জানান এবং দেশবাসীকে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
নাগরিক মঞ্চ আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী আহসান উল্লাহ শামীম। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গুম থেকে ফিরে আসা লেঃ কর্ণেল (অবঃ) হাসিনুর রহমান বীর প্রতিক, সামরিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক লেঃ কর্ণেল (অবঃ) ফেরদৌস আজিজ, বাংলাদেশ ইসলামী দলের চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির, লিবারেল ইসলামী এ্যালায়েন্স এর আহ্বায়ক এডভোকেট মোঃ মাইনুদ্দিন, বাংলাদেশ মানবিক পার্টির চেয়ারম্যান মোঃ শাখাওয়াত হোসেন শুভ, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক পার্টির মহাসচিব ছিদ্দিকুর রহমান আজাদী, গণআজাদী লীগের সভাপতি মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান, প্রফেসর ড. আবু হানিফ খান, বাংলাদেশ ইসলামী জনকল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা আলতাফ হোসাইন মোল্লা, জনসংঘ সমিতির সভাপতি মোঃ আকবর হোসাইন, ফেয়ার ইলেকশন অ্যাডভাইজরি কমিটির সভাপতি মোঃ আবদুল কাইয়ুম, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান মোসতাক আহমেদ ভাসানী, জুলাই যোদ্ধা এডভোকেট আশরাফি সানজিদা, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. মনজুরুল আলম মাসুদ, জাগো তারুণ্য’র সভাপতি মোঃ ইমরান হাসান রহুল, বাংলাদেশ ইসলামী দলের যুগ্ম মহাসচিব মোঃ খোরশেদ আলম প্রমুখ।
জনগণের সরকার ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের সকল অপকর্ম যেমন— ম, খুন, হত্যা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে একটি প্রকৃত জনগণের সরকার প্রয়োজন। তারা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সমাবেশে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত গড়ে তোলা ও ভোট দেয়ারও আহ্বান জানান।
বক্তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারী কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, “নির্বাচন একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হওয়া উচিত”। ফ্যাসিবাদের পতনের পর জাতি যখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে, তখন একটি রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে দেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
নাগরিক মঞ্চের নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো অপশক্তির উত্থান মেনে নেবে না। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে ১১ দলীয় জোটকে বিজয়ী করে একটি ইনসাফের সরকার গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য তারা সর্বস্তরের ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানান।
