কখনো সাধারণ রিকশা, কখনো গ্রাম্য ভ্যানে চড়ে আধুনিক যানের বিলাসিতা ছেড়ে মাটির মানুষ হয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নিজের নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জগন্নাথপুর ও বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের গ্রামগঞ্জে এভাবেই প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি।
একইদিন দুপুরে গলিমবাবুর হাট এলাকায় এক পথসভায় মির্জা ফখরুল জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে কোনো আপস নয়।
আসন্ন গণভোটকে সংস্কারের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটা কিছু খারাপ লোক নষ্ট করে ফেলেছে। এখন রাষ্ট্র মেরামতের পালা। আপনারা সংস্কার চাইলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। যদিও গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে, তবে ফখরুলের দাবি— এই ভোটই প্রমাণ করবে দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় কিনা।
দল ক্ষমতায় এলে ৫০ লাখ মায়ের জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কৃষকদের জন্য আলাদা কার্ড, যার মাধ্যমে সস্তায় সার, বীজ ও সেচের জল নিশ্চিত করা হবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ এবং মায়েদের এনজিও ঋণের বোঝা সম্পূর্ণ মওকুফের আশ্বাস দেন তিনি।
সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই উল্লেখ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, দেশে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। আপনারা নিজেদের অধিকার নিয়ে রুখে দাঁড়ান, বিএনপি অতীতেও আপনাদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রচারের শুরু থেকেই মির্জা ফখরুলের সাদামাটা চলাচল নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছিল ঠাকুরগাঁও। বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর করিমকে সঙ্গী করে একটি সাধারণ রিকশায় চেপে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। শীতের সকালে সেই রিকশা যাত্রার পেছনে পায়ে হেঁটে অনুগমন করেছিলেন কয়েকশ কর্মী সমর্থক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভিআইপি সংস্কৃতির বাইরে এসে সাধারণ রিকশা বা ভ্যান ব্যবহার করে ফখরুল মূলত আমজনতার সঙ্গে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা করছেন। আজ জগন্নাথপুর থেকে ২৯ মাইল পর্যন্ত তার ভ্যান যাত্রা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন চর্চার জন্ম দিয়েছে।
