মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যই রাজনীতি করছেন বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির একজন প্রবীণ রাজনীতিবীদ। ২০১৯ সালের ১৫ মে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জি এম সিরাজ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরপর ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই রাজনীতিবিদ এস আর গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। ঢাকা ও বগুড়া মিলে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় দশ হাজার মানুষ কর্মের সন্ধান পেয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি কর্মজীবনেও তিনি সফল। তিনি মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় ঘরে ঘরে খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করে জেলাজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন।
গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ১৯৫০ সালের ১৫ জানুয়ারি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ধনকুন্ডি গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ আসন থেকে প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও ২০১৯ সালে উপ-নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বরে রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সমাবেশ থেকে দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
বগুড়া-৫ নির্বাচনি আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিণত করেছেন এই রাজনীতিবিদ। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আসনটিতে টানা চারবার জিএম সিরাজ জয়ী হয়েছেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে এই দাপুটে নেতা ফের মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিগত সময়ে জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।
২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে নির্ধারিত সময়ে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করায় বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২৪ জুন ২০১৯ সালে এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সিরাজ জয়লাভ করেন।
গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য। শেরপুর-ধুনটের মানুষদের প্রধান সমস্যা কর্মসংস্থান, কৃষির ন্যায্যমূল্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা। এই খাতগুলোতেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দলমত নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য উন্নয়ন নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। বিএনপি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক সংগঠন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা বরাবরই শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে জিএম সিরাজ বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হওয়ায় শেরপুর ও ধুনটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্বাচনি এলাকার তরুণদের ভাবনা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ এবং সংস্কারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও ছাত্র-জনতার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি গ্রহণযোগ্য মনিটরিং টিম গঠন করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তরুণ ও যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সমাজ সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার উন্নতি ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেতে ব্যবস্থা নেবো।’
চিকিৎসা সেবা নিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, ‘গ্রামের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শহর পর্যন্ত সাধারণ মানুষ বিশেষ করে নারী, শিশু ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীর অবস্থান নিশ্চিত করব। শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়তে হবে। নির্বাচনি এলাকায় গ্যাসের সমস্যা সমাধান করে মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বেকার সমস্যা সমাধান করে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা হবে।’
উল্লেখ্য, বগুড়া-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী জিএম সিরাজ ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বগুড়া-৫ আসনের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
