English

22 C
Dhaka
রবিবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
- Advertisement -

রাজনীতিতে যোগদানের বিষয়ে মুখ খুললেন স্নিগ্ধ

- Advertisements -

গুঞ্জনের মুখে এবার মুখ খুললেন জুলাই শহীদ মীর মুগ্ধের ভাই মীর স্নিগ্ধ। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কারণ জানিয়েছেন তিনি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে মীর স্নিগ্ধ লেখেন

‘ভাই ব্যবসায়ী’ এই টার্মটা আসলে কীভাবে জাস্টিফাই হয়?

নিজের একটা সাজানো–গোছানো জীবন ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, কোনো কিছুর অভাব ছিল না। একজন সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিলাম। ছাত্রজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ থেকে শুরু করে হাতখরচ, নিজের শখ–আহ্লাদ, সবই আলহামদুলিল্লাহ নিজের উপার্জিত টাকায় পূরণ করেছি। নিজের বাইকসহ জীবনের অনেক স্বপ্নই নিজের টাকায় বাস্তবায়ন করেছি।

এরপর এলো জুলাই ২০২৪। নিজের ভাইকে হারালাম।

শত হুমকির পরও ‘মুগ্ধর পানি লাগবে’ ভিডিওটি প্রকাশ করে পুরো বিশ্ববাসীর কাছে বিচারের দাবি জানাই, যা জুলাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল। বিচারের আশায় বড় ভাইসহ কোর্ট, থানা, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে পায়ের চপ্পল ক্ষয়ে গেছে। ব্যাংক, অফিস—সব জায়গায় নিজে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজসহ মুগ্ধর হত্যার সব প্রমাণ সংগ্রহ করেছি।

দেশের বাইরে পড়াশোনা করে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ ছেড়ে দিয়ে, মুগ্ধর মতো আরও যারা শহীদ হয়েছেন এবং জুলাইয়ে আহত হয়েছেন, তাদের জন্য কাজ করতে বিনা পারিশ্রমিকে জুলাই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হই। আমি একা ছিলাম না, ছাত্র উপদেষ্টা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের আরও পরিচিত মুখ এ ফাউন্ডেশনে যুক্ত ছিলেন। সবাই মিলে সর্বোচ্চ সততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

আজও মনে পড়ে, পাবলিক বাসে ধাক্কা খেতে খেতে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে ঘুরে ফাউন্ডেশনটাকে দাঁড় করিয়েছি। এ সময়ে ফ্রিল্যান্সিং থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি, ফলে আমার ক্যারিয়ার প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকে।

তবুও হাল ছাড়িনি। ভাইয়ের হত্যার বিচারের জন্য এখান থেকে সেখান, লড়াই এখনো চলছে। কিন্তু যখন বুঝলাম, এইভাবে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব নয়, তখন রাজনৈতিকভাবে বিচার নিশ্চিত করার জন্য রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। মাত্র ২০ টাকার একটি ফর্ম পূরণ করে যুক্ত হই, এই আশায় যে বিচার নিয়ে রাজনৈতিকভাবে কাজ করতে পারব।

এখন বলুন

আমি কীভাবে ‘ভাই ব্যবসা’ করলাম?

এ দেশে কেউ দায়িত্ব পালন করলে সে সৎভাবেও দায়িত্ব পালন করতে পারে, এই বিশ্বাসটা আমরা কেন রাখতে পারি না?

কোনো প্রমাণ ছাড়াই কীভাবে আমরা কাউকে অসৎ ট্যাগ দিয়ে দিই?

তাহলে কি আপনাদের মতে, এসব না করে ভাই হত্যার বিচারের জন্য কাজ না করে নিজের নিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকেই চলে যাওয়াই আমার জন্য শ্রেয় ছিল?

প্রশ্ন রেখে গেলাম

রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানেই কী সে ব্যবসায়ী?

রাজনীতি তো কোনো ব্যবসা নয়।

আর যারা রাজনীতিকে ব্যবসা বানিয়েছে—আপনারা কি তাদেরই বারবার জিতিয়ে দিচ্ছেন না?

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/fa0t
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন