‘পক্ষপাতমূলক আচরণের’ অভিযোগ তুলে রাজধানীর সূত্রাপুর থানার ওসি মশিউর রহমানকে সরিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে সূত্রাপুর এলাকার কসমোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে দেখা করে এই আবেদন করেন ইশরাক।
ইসি সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজকে নির্বাচন কমিশনে আমরা এসেছি একটা অভিযোগ দায়ের করার জন্য এবং আমরা সেটি মৌখিকভাবে জানিয়েছি। আমাদেরকে জানানো হয়েছে যে, এই ব্যাপারে ওনারা তাদের যে আইনি সেল রয়েছে বা এই ধরনের কমপ্লেইন নিষ্পত্তি করার জন্য যে বডিটা রয়েছে, তাদের কাছে ওনারা এটা ফরওয়ার্ড করেছেন এবং উনারা ব্যবস্থা নেবেন ও খতিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।
সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি থানার আংশিক নিয়ে ঢাকা-৬ আসন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে। তার আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে কসমোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র থেকে ১৫২টি ক্রিকেট স্টাম্প উদ্ধারের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপির প্রার্থী বলেন, সেই স্কুলের মালিকানায় রয়েছে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এবং সেখানে জকসুর সম্ভবত একটা ক্লাব রয়েছে। যতটুকু আমি জানতে পেরেছি ক্লাব হিসেবে অভিহিত করা হত, সেই ক্লাবের দরজা ভেঙে তারা এই মোটা স্টাম্প বা লাঠিগুলো উদ্ধার করে।
ওই কেন্দ্রে লাঠিসোটা মজুদ করার অভিযোগ পেয়ে তা সূত্রাপুর থানা পুলিশকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ইশরাক।
ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু স্কুলের মালিককে সতর্ক করার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সতর্ক করে দেওয়ার চার ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর আমরা জানতে পারি যে এরকম পরিস্থিতি, সেখানে দুটি পিকাপ ট্রাক আসে। পিকাপ ট্রাকে এসে বড় বড় বস্তায় করে বিপুল সংখ্যক লাঠিসোটা সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।’
বিএনপি প্রার্থী বলেন, সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলে আগে থেকেই অভিযোগ ছিল এবং তা শুনে সেখানে স্থানীয় লোকজন অবস্থান নেন। পরে পুলিশের কোতোয়ালি জোনের এসি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে পুলিশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ক্লাব থেকে ক্রিকেট স্টাম্পগুলো উদ্ধার করে।
ইশরাক বলেন, একটা কেন্দ্রে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে তো সেই কেন্দ্রে কীভাবে নির্বাচন আমরা করব? সেটি একটি বড় প্রশ্ন রয়েছে। কেন্দ্র পরিবর্তন সম্পর্কে আমরা আবেদন জানিয়েছি। তবে সেটি কমিশনের যে আইন অনুযায়ী এবং সময় সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ওনারা পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদেরকে আশ্বাস জানিয়েছেন।
‘আরেকটি হলো সূত্রাপুর থানার যিনি ওসি আছেন, তো ওনার ব্যাপারে আমাদের এটা একটা অভিযোগ, এলাকাবাসীসহ আমাদের। কারণ ওনাকে জানানোর পরেও তিনি (ওই ভবনে) প্রবেশ করেননি এবং তিনি একটা উইন্ডো স্পেস করে দিয়েছেন। যেই সময়টির মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্র সেখান থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তো এই দুটি বিষয় জানাতে আজকে আমরা এসেছিলাম ‘
এর আগে ইসি সচিবের কাছে ইশরাক হোসেনের নির্বাচনি সম্বয়নকারী সাইদুর রহমান মিন্টুও এই দাবি জানান।
