English

29 C
Dhaka
শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬
- Advertisement -

হারা না মানা তারেক রহমানের কারাবন্দি দিবস আজ

- Advertisements -

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ২০তম কারাবন্দি দিবস আজ ৭ মার্চ। রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে অসৎ উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ২০০৭ সালের এই দিনে তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছিল সেনাসমর্থিত এক-এগারো সরকার। দলীয় প্রধানের গ্রেপ্তারের দুই দশক পূর্ণ হওয়ায় দিনটিকে দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে স্মরণ করছে বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি কুখ্যাত ‘ওয়ান-ইলেভেনের’ পর থেকেই দেশটা চলছিল অনিয়মের মধ্য দিয়ে। জরুরি আইন জারি করে সংবিধান বা আইনের শাসনকে পাশ কাটিয়ে তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়কসরকার দেশকে বিরাজনীতিকরণের মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। দুনীর্তির বিরুদ্ধে জেহাদ আর সংস্কারের আওয়াজ তুলে রাজনৈতিক নেতাদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি, গ্রেপ্তার আর চরিত্র হননের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত ও দীর্ঘস্থায়ী করাই ছিল মইনুদ্দিন ফখরুদ্দিনে মূল উদ্দেশ্য।

আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তখন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে মেলবন্ধন তৈরিতে তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া আর রূপসা থেকে পাথুরিয়া। নেতাকর্মীদের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন তুমুল জনপ্রিয়। দেশজুড়ে তার এই ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা সেনা-সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরাকারের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একটি বিদেশি এজেন্সির প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নে তারেক রহমানকে বড় হুমকি বলে চিহ্নিত করে তারা।

তারেক রহমানের ব্যাক্তি ইমেজ ধসিয়ে দিতে তৎপর হয় সেনা সমর্থিত সরকার। রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে দুর্বল করতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে মইনুদ্দিন ফখরুদ্দিন গং।  জরুরি আইন জারির দুইমাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল রোডের বাসা থেকে তাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর শুরু হয় তার সঙ্গে চরম অমানবিক আচরণ। গ্রেফতারের পর হাতকড়া লাগিয়ে র‍্যাবের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হেলমেট পরিয়ে তাকে আদালতে তোলা হত। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে একাধিকবার রিমান্ডে নিয়ে বর্বরোচিত কায়দায় নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে তারেক রহমানকে নির্যাতনের কিছু ছবি ফাঁস হলে আতঁকে ওঠে দেশের মানুষ। দীর্ঘ ১৮ মাস তিনি কারা নির্যাতিত হন।

ওয়ান-ইলেভেন সরকার তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে তার বিরুদ্ধে দায়ের করে ১৩টি মামলা। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে, তাকে নেওয়া হয় ডিটেনশনে। ছয় দফায় ১৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে করা হয় অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। দেশ ও রাজনীতি ছাড়ার চাপ দেয়া হয় তাকে।

২০০৭ সালের ২৮ নভেম্বর আদালতের কাঠগড়ায় তারেক রহমান নিজেই তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। বারবার রিমান্ডের নামে নির্যাতনের একপর্যায়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২০০৮ সালের ৩১ জানুয়ারি তৎকালীন পিজি হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয় তাকে।  চিকিৎসকদের দেওয়া মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়, নির্যাতনের ফলে তারেক রহমানের মেরুদণ্ডের দুটি হাড় ভেঙে গেছে। বেঁকে গেছে কয়েকটি হাড়। কমেছে মেরুদণ্ডের ৩৩টি হাড়ের দূরত্ব। চোখ ও হৃদযন্ত্রের নানা সমস্যার কথাও উল্লেখ করা হয় সে রিপোর্টে।

তারেক রহমানের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকলে বাড়তে থাকে জনরোষ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও তার উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সোচ্চার হয়। এ অবস্থায় অনেকটা চাপের মুখেই সেনা সমর্থিত সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিন পান তিনি। ১১ সেপ্টেম্বর রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য অসুস্থ তারেক রহমানকে নেওয়া হয় যুক্তরাজ্যে। সঙ্গে যান স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও শিশু কন্যা জাইমা রহমান।

পরে পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচনে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে তারেক রহমানের দেশে ফেরার ওপর নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার সংখ্য বাড়তে থাকে। মোট ৭৭টি মামলায় আসামী করা হয় তাকে। এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তড়িঘড়ি করে একাধিক মামলার রায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা প্রদাান করা হয়। এসব ছিল মুলত তারেক রহমানকে দেশে ফিরতে না দেওয়ার জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের কৌশল। এমনকি আদালতকে ব্যবহার করে তার বক্তব্য প্রচারের নিষেধাজ্ঞা জারি করেঝিল শেখ হাসিনার সরকার। এর মাঝেই তারেক রহমানকে হারাতে হয়েছে ছোটভাই আরাফত রহমান কোকোকে। ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ২০১৮ সালে বন্দি করা হয় তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মা বেগম খালেদা জিয়াকে। বন্দি অবস্থায় নানা রোগে আক্রান্ত হন বেগম জিয়া। তাকে বঞ্চিত করা হয় উন্নত চিকিৎসা থেকে।

২০১৮ সালে দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ডন থেকেই দল পরিচালনার কাজ শুরু করেন তারেক রহমান। পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপির ঐক্য ধরে রাখতে লন্ডনে বসেই তৎপর হন তিনি। প্রবাসে থেকেও অনলাইনে ভার্চ্যুয়েলি যুক্ত হয়ে দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে গেছেন নানা নির্দেশনা। বিএনপির তৃণমূলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ, পাশাপাশি দলের নীতিনির্ধারণী কাজে নেতৃত্ব দিয়ে যান তিনি। তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই ফ্যাসিস্ট সরকারের বহুমুখী অপতৎপরতায় ভাঙতে পারেনি বিএনপিকে।

২০২৪ সালের আগস্টে স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি গত ২৩ ডিসেম্বরে ঢাকায় ফিরে প্রত্যক্ষভাবে দলের হাল ধরলেন। দেশে ফিরে তাকে সহ্য করতে হয়েছে মমতাময়ী মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হারানোর শোক। বুকে শোকের পাথর নিয়েই তারেক রহমান ত্রয়োদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিজ দলের প্রচারণায় দিন রাত ছুটেছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত।

দেশের মানুষের অকুন্ঠ সমর্থনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনে তারেক রহমান দুটি সংসদীয় আসনেই জয়লাভ করেন। তবে তিনি বগুড়ার আসনটি ছেড়ে দিয়ে জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের চার দেয়াল পেরিয়ে, জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় জনগণের সামনে উন্মুক্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার শপথ নেন।

বিএনপি নেতারা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তারেক রহমান দলের নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন। দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তারা। তাই কারাবন্দী দিবসটি বিএনপির কাছে শুধু একটি স্মৃতির দিন নয়, বরং রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/4qbd
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন