বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, নির্বাচনের পর মাত্র আড়াই থেকে তিন মাসের মাথায় সরকারের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি করা উচিত নয়। ১৬ বছর যেভাবে অপেক্ষা করা হয়েছে, সেই তুলনায় নতুন সরকারকে সময় দিয়ে কাজের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
শনিবার (২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় তিনি সব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৭ তারিখে শপথগ্রহণের মধ্যদিয়ে যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, তার প্রতিফলন ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।
ফারুক বলেন, ‘তিন মাসেই যদি সব কাজ শেষ করা যেত, তাহলে বাকি সময়ের দরকার হতো না? সরকারকে সময় দিতে হবে এবং আস্থা রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক। অতীতের শাসনামলে অর্থনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটিকে পুনর্গঠন করতে সময় লাগবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার পতনের মতো বক্তব্য হতাশাজনক। ১৫ দিনের মাথায় উৎখাতের কথা বলা ঠিক নয়।
তিনি গণতন্ত্র, সংবিধান ও জনগণের সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক নির্যাতন, মামলা ও দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এসবের পরই জনগণের সমর্থনে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার যেন গণতন্ত্র ও মানুষের সেবায় নিবেদিত থাকতে পারে, সে জন্য সবার দোয়া ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
দলীয় নেতা-কর্মী ও জোটের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে যেমন সহযোগিতার কথা বলা হয়, বাইরে গিয়েও সেই একই অবস্থান বজায় রাখা উচিত।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
