রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রতিবাদী সমাবেশকে’ দলটির জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন জাকসু এজিএস (শিবির সমর্থিত প্যানেল) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতের মহিলা বিভাগের বক্তব্য শোনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন মেঘলা।
পোস্টে তিনি লেখেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসমাবেশের সময়ই তিনি বলেছিলেন— নারীদেরও এমন বড় পরিসরের সমাবেশ হওয়া উচিত। তবে সেই সময় অনেক নারীই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন যে এটি বাস্তবসম্মত নয়। তাদের যুক্তি ছিল, জেলা পর্যায় থেকে নারীদের আসা কঠিন, অনেকের সঙ্গে মাহরাম কিংবা সন্তান থাকবে—এমন পরিস্থিতিতে সমাবেশ আয়োজন করা সম্ভব নয়।
মেঘলা আরও লেখেন- জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের একটি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি আগেও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তখন থেকেই তার মনে প্রশ্ন ছিল—তারা যদি আন্তর্জাতিক পরিসরে আয়োজন করতে পারে, তবে দেশে কেন সম্ভব নয়? তিনি উল্লেখ করেন, ‘৩১ জানুয়ারি নাকি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সমাবেশ আছে। মহিলা জামায়াতের নিজেদের উপস্থাপন করার এটাই সেরা সুযোগ।’
এ সমাবেশকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে জাকসু এজিএস বলেন, ‘মহিলা সমাবেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি যুগান্তকারী মুভ।’ তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী পলিসি সামিট আয়োজন করে যেমন চমক দিয়েছিল, এই সমাবেশও তেমন চমক সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে তিনি মহিলা বিভাগের বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান।
এছাড়া আরেকটি পোস্টে মেঘলা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীবিষয়ক ইস্যুতে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, জামায়াতের এক নেতা যখন নারীদের ‘পতিতা’ বলে মন্তব্য করেছিলেন—যা কোনোভাবেই কাম্য নয়—তখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। ২০ জনের একটি সমাবেশে কয়েকজন মাইক হাতে কী বলেছে, সেটিই শতাধিক মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতারা যখন নারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়, পেটে লাথি মারে, বিবস্ত্র করার চেষ্টা করে বা গায়ে হাত তোলে—সেসব ঘটনা গণমাধ্যমে সেভাবে উঠে আসে না, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচিত হয় না। তিনি বলেন, ‘পতিতা বলায় যে বাঘিনীরা জেগে উঠেছিল, তারা নারীকে উলঙ্গ করার কথা শুনে গর্তে লুকায়।’
মেঘলা আরও লেখেন- নারীবাদীরা নারীর অধিকার ও নিরাপত্তার কথা বললেও বোরকা ও হিজাব পরা নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে তারা নীরব থাকে—যা প্রশ্নবিদ্ধ।
