প্রাথমিকভাবে জাতীয় পার্টির বিজয় অর্জিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।তিনি বলেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা শেষ পর্যন্ত ভোট করতে পেরেছি এবং ব্যালটে লাঙ্গল প্রতীক ছিল। কাজেই এটা আমাদের প্রাথমিক বিজয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো অসনে জয়ী হতে না পারার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শুক্রবার গণমমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, জাতীয় পার্টিকে ভোটের বাইরে রাখার অনেক চেষ্টা হয়েছে। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য মিছিল-মিটিং হয়েছে। জাতীয় পার্টিবিহীন রাজনীতির ছক কষা হয়েছে। পার্সেন্ট ভোটে যেনো জাতীয় পার্টি ভালো করতে না পারে সে জন্যও কৌশল করা হয়েছে। আমরা মনে করি শিগগিরই সঠিক রাজনীতি ফিরবে বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি মাথা উচু করেই রাজনীতিতে থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের অনেক প্রার্থী ছিলেন, যারা দফায় দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। ব্যাপক জনপ্রিয় এসব প্রার্থীদের কৌশলে করে তৃতীয় অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টিকে হারানোর জন্য মাস্টারপ্ল্যান করা হয়েছে।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না দাবি করে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে হয়েছে অনেক পরে। কারণ আমাদের ৫০ জনের মতো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। ওই প্রার্থীদের আপীলের জন্য দৌঁড়াতে সময় অপচয় হয়েছে। এছাড়া বিগত দেড় বছর ধরে জেলা পর্যায়ে কোন কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি। আমাদের পার্টি অফিসে দফায় দফায় হামলা করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির নেতাদের টকশোতে ডাকলে সেই মিডিয়াকে হুমকি দেওয়া হতো। এসব করে জাতীয় পার্টিকে হারানো হয়েছে।
জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি ২৪৫ আসনে প্রার্থী দেয়। কয়েকজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল থেকে বিরত থাকে, আর বেশ কিছু প্রার্থীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করা হয়। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাড়ায় ১৯৬ জনে। কিন্তু একটি আসনেও জিততে পারেনি দলটির প্রার্থীরা। অনেক জায়গায় এতো কম ভোট পেয়েছে যা পার্টির ইমেজের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন দলটির কর্মীরা। জাতীয় পার্টি গঠনের পর আর কখনও এমন লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হয়নি দলটিকে।
