বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিনামূল্যে শিক্ষা সম্প্রসারণ ও মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
রবিবার রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবা-বিষয়ক এক আলোচনা ও চা–চক্রে এ কথা জানান জুবাইদা রহমান। লেডিজ অব গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচ ও নিকেতনের উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্পূর্ণ উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার ৫১ শতাংশ নারী। দেশ গঠনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। দেশ ও জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে অবদান রাখতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন পূর্ণতা পায় না।’
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘চিকিৎসার অভাবে সন্তান জন্মদানের সময় অনেক মা অকালে প্রাণ হারান। আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে, প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপদভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হবে।’
নারীদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ প্রসঙ্গে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। অনেক নারী নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্বস্তিতে চলাচল করতে পারেন না। গার্মেন্টস খাতের হাজারো নারী কর্মীর রাতের চলাচলও নিরাপদ নয়।’
সবেতনে ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী বলেন, ‘পাশাপাশি নিরাপদ আবাসন, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং কর্মস্থলে ডে–কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে প্রতিটি মা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন।’
বয়োজ্যেষ্ঠ নারীদের প্রসঙ্গ টেনে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আজ মনে পড়ে সেই বয়োবৃদ্ধ নারীর কথা, যাঁকে শিকলে করে বেঁধে একটি বৃদ্ধাশ্রমের গেটে দিয়ে আসে তার পরিবারের লোকজন। সেই মাকে আমরা জানাতে চাই, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন করা হবে।’
নারীদের সহায়তায় বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আমরা নারী সাপোর্ট সেল গড়ে তুলব। উদ্যোক্তা নারীদের আর্থিক ও দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে। অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’
আলোচনা সভায় বক্তারা এলাকার পরিবেশ, যানজট ও পরিবহন খাতের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে জুবাইদা রহমান বলেন, এসব সমস্যার সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিত সমাধান বিএনপির ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অধ্যাপক হাসিনা খান, স্থপতি ও পাইলট ক্যাপ্টেন ইয়াসমিন, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নায়লা জামান।
গুলশান সোসাইটির পক্ষ থেকে উদ্যোক্তা শায়লা রহমান, তারকা শেফ আল্পনা হাবিব, বনানী সোসাইটি থেকে নারী উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী জেবুন নাহার মঈন, বারিধারা সোসাইটি থেকে নাজমা ইসলাম, নিকেতন সোসাইটি থেকে সারজানা সুলতানা, পুরাতন ডিওএইচএস থেকে সিমিন এম আখতার, মহাখালী ডিওএইচএস থেকে নাজনীন আকবর হক, সেনানিবাস এলাকা থেকে সৈয়দা শাহরিয়া সামাদ, বারিধারা ডিওএইচএস থেকে ফরিদা ইয়াসমিন বক্তব্য দেন।
