জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা মা-বোনদের রাস্তায় দেখলে কাপড় খুলে ফেলার হুমকি দেয় তারা মানব প্রজাতির নয়। যারা ইলেকশনের আগে এমন কথা বলতে পারে তারা ইলেকশনের পর কী করবে সেটা বোঝা যাচ্ছে। মর্নিং শ্যোজ দ্যা ডে; সূর্য যখন সকালবেলা পূর্ব দিগন্তে উঠে তখন বোঝা যায় আজকের দিনটি কেমন যাবে। তারা মায়ের জাতির প্রতি কি দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন, তারা তা প্রকাশ করেছে।
শনিবার (৩১ শনিবার) বেলা ২টার দিকে দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুলের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমাদের অঙ্গীকার ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে বাংলাদেশ বানাবো। এমন একটি বাংলাদেশ বানাতে চাই যে দেশের অসংখ্য বন্ধু রাষ্ট্র থাকবে। তবে, আমাদের কোনো প্রভু থাকবে না। বাংলাদেশের আসমানের নিচে জমিনের উপরে সবার সমান অধিকার। সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংবিধান ও আঠারো কোটি মানুষের উপর জুলুম করা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের বস্তাপচা রাজনৈতিকের বন্দোবস্ত আর চলতে দিবো না। ওই পচা রাজনীতিকে এখন লাল কার্ড দেখাবো। অনেক টাকা চুরি করেছো, অনেক লুটপাট, খুন করেছো, বিদেশে বেগম পাড়া করেছো। আর বাংলাদেশের মানুষকে বিপদে ফেলেছো।
৫ আগস্টের পরে অনেকের চরিত্রের পরিবর্তন নেই উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট পূর্বে ৫৪ বছরের বাংলাদেশের অন্যরকম রূপ আমরা দেখেছি। আমরা সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতির দম্ভ, ব্যাংক লুট, শেয়ার মার্কেট লুট দেখেছি। আমরা আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত ক্ষতি করতে দেখেছ, যুবককে জবাই করতে দেখেছি। এই রাজ্যে একটি পরিবার, একটি গোষ্ঠী, একটা দল ছাড়া এর বাইরে সবাইকে বিবেচনা করা হতো আমরা দেশের ভাড়াটিয়া; তারাই দেশের মানুষ। ৫ তারিখের পরে অনেকের মধ্যে আত্মসমালোচনা এসেছে। অনেকের আবার চরিত্রের পরিবর্তন হয় নাই। দুইটা দেখছি আমরা। এই নির্বাচন সামনে রেখে অনেকে সোনালী কবিতা নিয়ে আপনাদের কাছে আসবেন। আমরা এই করবো, ওই করবো বাংলাদেশকে আমেরিকা বানিয়ে দিবো।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, আমরা এমন অলিক কোনো অঙ্গিকার করবো না। যে অঙ্গিকার বাস্তবায়নের সামর্থ্য সরকারের থাকবে না। তবে, ন্যায়বিচার যখন কায়েম হবে, জনগণের অধিকার পাওয়া। সন্তানের লেখাপড়া, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, সারাজীবন যারা রাষ্ট্র ও সমাজকে দিয়ে গেছেন বৃদ্ধ বয়সে তাদের দায়িত্ব পালন এগুলো সব সরকারের দায়িত্ব। বিশেষ করে পাঁচ বছরের পর্যন্ত শিশুদের প্রাপ্য চিকিৎসা বিনামূল্যে করা হবে। যদি একটা জাতিকে সুস্থ সবল করা না যায়; তাহলে উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব না।
