উত্তরের জেলা পাবনায় হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু হওয়ায় শয্যা সংকট, অতিরিক্ত রোগীর ভিড় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য বলছে, বর্তমানে এখানে ২৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ২৫ জনই ৩ মাস থেকে ১২ মাস বয়সি শিশু। শিশু ওয়ার্ডের এই চিত্রই প্রমাণ করছে, প্রাদুর্ভাবের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে নবজাতক ও অল্পবয়সি শিশুরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। গত সাত দিনে এই সংখ্যা ২৩ জন। আর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৮ জনে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডে প্রবেশ করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মেঝে পর্যন্ত রোগীতে ভরা, অনেক ক্ষেত্রে একটি শয্যায় দুইজন করে শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বারান্দার কাঁচঘেরা কক্ষেও চলছে চিকিৎসা। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ভোগান্তি বাড়লেও চিকিৎসকরা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ফজলি খাতুন বলেন, রোগী অনেক, কষ্ট তো আছেই। তবে ডাক্তাররা খোঁজ নিচ্ছেন।
মিজানুর রাহমান বলেন, সব উপজেলা থেকে রোগী আসে, তাই ভিড় হওয়া স্বাভাবিক। তবে ব্যবস্থাপনা আরও ভালো করা যেত।
চিকিৎসকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. তানভীর ইসলাম জানান, রোগী বাড়লেও আমরা আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করেছি। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে আছে।
অন্যদিকে, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. রফিকুল হাসান বলেন, হাম একটি ভাইরাসজনিত ছোঁয়াচে রোগ। সব বয়সের মানুষ আক্রান্ত হতে পারে, তবে শিশুদের ঝুঁকি বেশি। বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো সংকট নেই।
