গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় অনুমোদনহীন বেকারির কার্যক্রম দিন দিন উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া গ্রামে অবস্থিত **‘ফাতেমা এন্ড সিয়াম বেকারি’**তে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, কাঁচা ইটের তৈরি একটি স্থাপনায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করে বেকারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নেই কোনো স্বাস্থ্যসম্মত চুল্লি বা অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। বেকারির ভেতরে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত বড় বড় হাঁড়ি, ড্রাম ও পাত্রগুলো মরিচা ধরা, অপরিষ্কার এবং খোলা অবস্থায় রাখা হয়েছে, যেখানে সহজেই ধুলোবালি ও জীবাণু জমার আশঙ্কা রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই পরিবেশেই তৈরি করা খাবার প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্যাকেটজাত পণ্যে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ, উপাদান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। ফলে ভোক্তারা না জেনেই স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, শুধু কুন্দেরপাড়া নয়, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও অনেক বেকারি একইভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি বা নিয়মিত অভিযান নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী অনুমোদনহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণের ফলে ডায়রিয়া, খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অনুমোদনহীন বেকারিগুলো বন্ধ করা, স্বাস্থ্যসম্মত মান নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
