গোবিন্দগঞ্জে খাল খননের উদ্বোধন করলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী: জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় পদক্ষেপ

- Advertisements -

মাহমুদ হাসান নাঈম, গাইবান্ধা জেলা সংবাদদাতা: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় উপজেলার একটি জলাবদ্ধতা-কবলিত এলাকায়, যেখানে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, খাল-নদী পুনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য সম্পদের উন্নয়নও নিশ্চিত করা যায়। তিনি আরও বলেন, সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কাজ করছে এবং এই প্রকল্প সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, খালটি দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি জমে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতো, যার ফলে কৃষিজমি নষ্ট হওয়া ছাড়াও বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও ব্যাপক ক্ষতি হতো। এসব সমস্যার সমাধানেই খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে। এতে করে কৃষিজমিতে সময়মতো চাষাবাদ করা যাবে এবং সেচ ব্যবস্থাও উন্নত হবে। একই সঙ্গে খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হলে মাছের উৎপাদন বাড়বে, যা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন। অনেক সময় জমিতে ফসল ফলানো সম্ভব হতো না কিংবা ফলন কমে যেত। খালটি পুনঃখনন হলে তারা নতুন করে আশার আলো দেখছেন। তাদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে।

এলাকার সাধারণ জনগণও এই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, খালটি সচল হলে শুধু কৃষি নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে এবং স্থানীয় বাজার ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। এতে করে সামগ্রিকভাবে এলাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়ে উঠবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে খাল-নদী পুনঃখনন অত্যন্ত কার্যকর একটি উদ্যোগ। তবে প্রকল্পের সুফল দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।

সবমিলিয়ে, গোবিন্দগঞ্জে এই খাল খনন প্রকল্প শুধু একটি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নয়, বরং এটি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে গোবিন্দগঞ্জসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/5iof
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন