আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। আজ মঙ্গলবার নগর ভবনে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ প্রস্তুতির বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ও যানজটমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করতে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সভায় ডিএসসিসি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি ও সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শ্রমিক কমিটি অংশগ্রহণ করে।
সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকার জন্য গৃহীত মূল পদক্ষেপসমূহ:
১. অবৈধ কাউন্টার ও দোকান উচ্ছেদ:
সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে টিটি পাড়া পর্যন্ত সড়ক পার্শ্বস্থ সকল অবৈধ টিকেট কাউন্টার অপসারণ করা হবে। এছাড়া টার্মিনালের অভ্যন্তরে থাকা অবৈধ দোকানও দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।
২. নিয়মতান্ত্রিক কাউন্টার বরাদ্দ:
টার্মিনাল অভ্যন্তরে প্রকৃত বাস কোম্পানিগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী টিকেট কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়া হবে। এতে বাস মালিক সমিতি, ডিএসসিসি ও পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ একসাথে কাজ করবে।
৩. টার্মিনাল ও বাস-বে ব্যবহার নিশ্চিতকরণ:
বাসগুলোকে নির্ধারিত ৫টি বাস-বে ব্যবহার করতে হবে। যাত্রী ওঠানোর জন্য বাসগুলো সর্বোচ্চ ২০–৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে পারবে।
৪. যাত্রী সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন:
যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনালে তথ্যকেন্দ্র (Information Desk) এবং মাতৃদুগ্ধ কক্ষ (Breastfeeding Room) স্থাপন করা হবে। এছাড়া টার্মিনালের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ, শৌচাগার মেরামত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫. অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধ:
ঈদুল ফিতরের কারণে যাত্রী সমাগম বেড়ে যাওয়ার সুযোগে কোনো পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবে না। এ বিষয়ে মালিক সমিতিকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৬. যানজট নিরসন ও পরিত্যক্ত বাস জব্দ:
টার্মিনালের অভ্যন্তরে দীর্ঘকাল ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত বাস জব্দ ও অপসারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ট্রাফিক বিভাগকে, যা মূল সড়কের যানজট কমাতে সহায়তা করবে।
সভায় বক্তব্য রাখার সময় ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ঈদ যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ, বাস মালিক ও শ্রমিকরা একসাথে কাজ করবে। যাত্রীদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য সমন্বিত সিদ্ধান্তগুলো যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’
