দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সিভিল এভিয়েশন একাডেমি আযোজিত ট্রেনিং কম্পিটেন্সি ডেভেলপমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক বিষয়ক এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।
সেমিনারে সূচনা বক্তব্যে সিভিল এভিয়েশন একাডেমির ডেপুটি ডিরেক্টর (এটিএম) মো. মজিবুর রহমান মিয়াজী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দক্ষতা ও সক্ষমতার ওপর। আধুনিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদই নিরাপদ ও কার্যকর অপারেশন নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
তিনি আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইসিএওর প্রশিক্ষণ কাঠামো, ট্রেইনার প্লাস প্রোগ্রাম এবং দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আইসিএও গ্লোবাল অ্যাভিয়েশন ট্রেইনিং (জিএটি) কর্মসূচি বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনেছে। এ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত ট্রেইনার প্লাস প্রোগ্রাম বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, আধুনিক ও নিরাপদ বিমান চলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সময়ের দাবি।
সিভিল এভিয়েশন একাডেমি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে একাডেমিটি ধারাবাহিকভাবে দেশের বিমান চলাচল খাতে প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। আইসিএওর ট্রেইনার প্লাস কর্মসূচির সদস্য হিসেবে একাডেমিটি ২০২২ সালে পুনরায় সদস্যপদ লাভ করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সিলভার এবং ২০২৫ সালে গোল্ড সদস্যপদ অর্জন করে, যা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সেমিনারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, সিভিল এভিয়েশন একাডেমি এবং বিমান চলাচল খাতের বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণ পেশাজীবীরা অংশ নেন।
