কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে চলন্ত অবস্থায় যাত্রীবাহী ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের। সাময়িক ওই রুটে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
এ ঘটনায় রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা-২ মো. মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনের অদূরে হাসানপুর-গুনবতী মধ্যবর্তী স্থানে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যা ৭টায় নাঙ্গলকোট রেলস্টেশন মাস্টার জামাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নাঙ্গলকোট রেলস্টেশন মাস্টার জামাল উদ্দিন জানান, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নাঙ্গলকোট রেলস্টেশনের অদূরে হাসানপুর-গুনবতী রেলপথের মধ্যবর্তী স্থানে চলন্ত উদয়ন এক্সপ্রেসের একাংশ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এতে ট্রেনের সামনের অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার এগিয়ে যাওয়ায় ট্রেনে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় যাত্রীদের চিৎকারে চালক বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত ট্রেন থামান। পরে ট্রেনে থাকা রেলওয়ে কর্মীরা প্রায় ৩০ মিনিট চেষ্টার পর বিচ্ছিন্ন বগিগুলো পুনরায় সংযুক্ত করে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
ঘটনার পরপরই একই লাইনে চলাচলকারী একটি ঢাকা-চট্টগ্রামগামী ট্রেন নাঙ্গলকোট স্টেশনে আটকা পড়ে, ফলে সাময়িকভাবে চট্টগ্রামমুখী রেল চলাচল ব্যাহত হয়।
এ বিষয়ে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া বলেন, এ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এরপরও ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা-২ মো. মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদেরকে প্রতিবেদন জমাদিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ারপর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
