দীর্ঘদিন পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকার পর প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ঘরে ফিরতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই কর্মজীবী মানুষের। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতিবছরই কয়েক দিনের জন্য কর্মজীবী নারী-পুরুষ বাড়ি ফেরেন। কিন্তু সেই যাত্রা যদি স্বস্তিদায়ক না হয়, তাহলে ম্লান হয়ে যায় ঈদের আনন্দ।
প্রতি বছর ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা দেখা গেলেও, এবার টহল জোরদার না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন যাত্রীরা। তবে বগুড়া জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ঈদের ছুটি শুরুর আগ থেকেই বাস ও ট্রেনের টিকিট কাউন্টারগুলোতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ। অনেকেই টিকিট না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছেন। এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
যাত্রীরা জানান, মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের টহল জোরদার না থাকলে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে ঈদের সময় ‘মলম পার্টি’ ও ‘গামছা পার্টি’র মতো প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরা খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য মিশিয়ে যাত্রীদের অজ্ঞান করে মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। ফলে নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জানা যায়, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতি বছরই লাখ লাখ মানুষ রাজধানী থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ছুটে যান। কর্মসূত্রে বছরের অধিকাংশ সময় দূরে থাকলেও ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর আগ্রহ থাকে সবারই।
তবে এবার ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। রাজধানী থেকে বগুড়ায় যাওয়ার অন্যতম সড়ক ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে কোথাও কোথাও কাজ থেমে আছে, আবার কিছু স্থানে সড়কের বেহাল দশা। এছাড়া সড়ক দখল করে যানবাহন পার্কিংয়ের কারণেও যানজটের আশঙ্কা বাড়ছে।
এর প্রভাব রেলপথের যাত্রীদের ওপরও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকেই সড়কপথের ঝুঁকি এড়িয়ে ট্রেনে ভ্রমণকে বেশি নিরাপদ মনে করছেন। এ কারণে ঈদের সময় বিশেষ ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
ঈদের সময় বাড়তি ভাড়া, যানজট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে। একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায় খুঁজছেন।
এদিকে, ঈদের আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছেন যাত্রীরা। যারা পেরেছেন, তারা আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তবুও অনেককে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বা ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
বগুড়া জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে। গত চার দিন ধরে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে এবং যাত্রীদের সেবা দিতে একাধিক টিম মাঠে রয়েছে।
