ভবিষ্যতে বিজ্ঞান এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন মানুষের বার্ধক্যের গতি ধীর করা, এমনকি উল্টে দেওয়াও সম্ভব হবে—এমন ধারণা দিয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ—বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম) এক আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ল্যারি ফিঙ্কের সঙ্গে আলোচনায় মাস্ক বলেন, বার্ধক্য কোনো অলৌকিক বা অজানা প্রক্রিয়া নয়। বিজ্ঞান একসময় এর মূল কারণ শনাক্ত করতে পারবে। তখন বিষয়টি মানুষের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।
মাস্ক ব্যাখ্যা করে বলেন, মানুষের শরীরের সব অংশ একসঙ্গে বুড়িয়ে যায়। কেউ এমন নয় যে শরীরের এক অংশ তরুণ থাকবে আর অন্য অংশ বুড়ো হবে। এর অর্থ হলো, শরীরের ট্রিলিয়ন সংখ্যক কোষে একই সময়ে বার্ধক্য দেখা দেয়। তাই ধারণা করা যায়, এই প্রক্রিয়াটি কোনো অভ্যন্তরীণ ‘জৈব ঘড়ি’ বা সমন্বিত জৈবব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।
মাস্কের এসব বক্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ, এর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অমরত্ব নিয়ে ভিন্ন একটি ধারণা তুলে ধরে আলোচনায় এসেছিলেন। তিনি মনে করেন, মানবসভ্যতা একদিন বিলুপ্ত হলেও মানুষের ডিজিটাল রেকর্ড মহাকাশে থেকে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে কেউ আবিষ্কার করতে পারে।
তবে মাস্ক সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে বার্ধক্য উল্টে দেওয়া সম্ভব হলেও এর সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। তার মতে, মৃত্যুরও কিছু ভূমিকা আছে। মানুষ যদি খুব দীর্ঘ জীবন পায়, তাহলে সমাজের স্বাভাবিক পরিবর্তনের গতি কমে যেতে পারে। এতে নতুন ভাবনা, ক্ষমতার কাঠামো ও সামাজিক ব্যবস্থায় স্থবিরতা আসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ফল হিসেবে সৃজনশীলতা ও উদ্যম কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
