কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের ভয় এখন আর কেবল কল্পবিজ্ঞানের পাতায় সীমিত নেই। এআইয়ের প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। একদিকে চাকরির বাজারে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতা এসব মিলিয়ে প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা আশীর্বাদ হয়ে আসছে তা নিয়ে মার্কিনীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক জরিপে।
‘স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র ‘২০২৬ এআই ইনডেক্স রিপোর্ট’ অনুসারে, জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বলেছেন, এআই ব্যবহার করে তৈরি বিভিন্ন পণ্য তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বা অস্বস্তি তৈরি করছে। গেল কয়েক বছরে এ প্রযুক্তি নিয়ে মানুষের মধ্যে যে উত্তেজনা ছিল তাও অনেকটা কমে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই নিয়ে জনমত এখন বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিদের মতামতের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। মানুষ এখন চিন্তিত, এআই তাদের কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি থেকে শুরু করে নির্বাচন এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এআইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এর অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না বলেও উঠে এসেছে প্রতিবেদনটিতে। ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি চালুর পর থেকে এআই সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার হার তিন গুণেরও বেশি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে লেখকরা বলেছেন, “সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এআইয়ের দায়িত্বশীল দিক, যেমন নিরাপত্তা উন্নত করতে গেলে এর অন্য আরেকটি দিক, যেমন নির্ভুলতা কমে যেতে পারে।”
প্রতিবেদনটি এআই নিয়ে মানুষের ক্রমাগত নেতিবাচক মনোভাবের চিত্রই ফুটিয়ে তুলেছে, যেখানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হতাশা সবচেয়ে বেশি। আমেরিকান বিশ্লেষণ ও পরামর্শদাতা কোম্পানি সাম্প্রতিক ‘গ্যালাপ’-এর জরিপে দেখা গেছে, গেল এক বছরে জেনারেশন জি বা জেনজি প্রজন্মের মধ্যে এআই নিয়ে উৎসাহ ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, এ নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩১ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রযুক্তি জায়ান্টরা এআইয়ের ভবিষ্যৎ অতি বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যে তাত্ত্বিক ভয়ের কথা বলে আসছেন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আসলে সেখানে নয়, বরং সমাজে এ প্রযুক্তির বাস্তব প্রভাব নিয়েই মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আচরণবিষয়ক বিজ্ঞানী ক্যারোলিন অর বুয়েনো বলেছেন, “আমার মনে হয় অনেক প্রযুক্তি নেতার চিন্তাভাবনা সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা বুঝতে পারছেন না যে, এআই বিশ্ব দখল করে নেবে এমন ভয় থেকে এ বিরোধিতা আসছে না। অবশ্যই সেই ভয় কিছু মানুষের মধ্যে আছে। তবে বেশিরভাগ মানুষ এখন তাদের বেতন ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ চালানো নিয়ে বেশি চিন্তিত।”
এআই নিয়ে তৈরি হওয়া এ হতাশা এখন আর আলোচনার মধ্যে সীমিত নেই, বরং এআই তৈরির পেছনের বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে। গত কয়েক মাসে অনলাইনে এআইয়ের উন্নয়ন স্থগিতের ডাক দেওয়া বিভিন্ন দলের জনপ্রিয়তা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। এ এআই-বিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কিছু সদস্য চরমপন্থি পদক্ষেপও নিয়েছেন।
সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যানের ক্যালিফোর্নিয়ার বাড়িতে দুটি আলাদা হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার মধ্যে একটি ছিল পেট্রোল বোমা হামলা ও অন্যটি আগ্নেয়াস্ত্রের হামলা।
