মঙ্গল গ্রহে ১০ লাখ মানুষের বসতি গড়ার লক্ষ্য স্পেসএক্সের

- Advertisements -

বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের অন্যতম ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স মঙ্গল গ্রহে অন্তত ১০ লাখ মানুষের স্বনির্ভর উপনিবেশ গড়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাকে সামনে রেখে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বুধবার প্রকাশিত হালনাগাদ আইপিও নথিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তৈরি করা যা মানবজাতিকে বহু-গ্রহে বসবাসের সক্ষমতা দেবে।

স্পেসএক্সের ভাষায়, তাদের মিশন হচ্ছে জীবনকে বহুগ্রহভিত্তিক করে তোলা।

নথি অনুযায়ী, কোম্পানির শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ মার্কিন ডলার। এই মূল্যায়ন অনুযায়ী স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা এটিকে ইতিহাসের বৃহত্তম আইপিওগুলোর একটিতে পরিণত করবে।

Advertisements

আইপিও সফল হলে এবং নির্ধারিত কিছু লক্ষ্য অর্জিত হলে ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে এগিয়ে যাবেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে মঙ্গল গ্রহে অন্তত ১০ লাখ মানুষের স্থায়ী ও স্বনির্ভর মানব বসতি স্থাপন।

স্পেসএক্স তাদের নথিতে বলেছে, ‘পৃথিবীর বাইরে মানব সভ্যতার বিস্তার আমাদের অস্তিত্বকে আরও নিরাপদ করবে এবং মানব চেতনার আলোকে একটি মাত্র গ্রহের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না।’

প্রতিষ্ঠানটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ডাইনোসরদের মতো মানবজাতির বিলুপ্তি এড়াতে মহাকাশভিত্তিক সভ্যতা গড়ে তোলা জরুরি। তাদের মতে, মানবজাতির পরবর্তী বড় অগ্রগতি হবে এমন একটি টেকসই ও ক্রমবর্ধমান মহাকাশযাত্রী সভ্যতা তৈরি করা, যা নতুন নতুন সীমান্তে উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করবে।

মঙ্গল অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্টারশিপ রকেট। এটি এখন পর্যন্ত নির্মিত সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রকেট হিসেবে পরিচিত। ভবিষ্যতে সৌরজগতজুড়ে মানুষ ও মালামাল পরিবহনের জন্য এটি তৈরি করা হচ্ছে।

Advertisements

তবে স্টারশিপ এখনও পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণযান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেনি। সাম্প্রতিক কয়েকটি পরীক্ষায় বাধার মুখে পড়ায় এর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

স্পেসএক্স ইতোমধ্যে নাসার বহুমূল্যের চুক্তি অর্জন করেছে। চুক্তির আওতায় স্টারশিপ নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামে ব্যবহার করা হবে। এর লক্ষ্য ২০২৮ সালের মধ্যে আবারও মানুষকে চাঁদে পাঠানো।

মূলত ২০২৪ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে ২০২৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারশিপের সাম্প্রতিক পরীক্ষাগত সমস্যার কারণে এ সময়সূচি আরও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

The short URL of the present article is: https://www.nirapadnews.com/y8xk
Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন